নজরবন্দি ব্যুরোঃ র্যাপিড টেস্টে ভয়ানক রেজাল্ট; কলকাতায় ব্যাপক গোষ্ঠী সংক্রমনের ইঙ্গিত পাওয়া গেল এদিন। দ্রুত করোনা পজিটিভ রোগীদের চিহ্নিত করার জন্য রায়পিড অ্যান্টিজেন টেস্ট শুরু করেছে কলকাতা পুরসভা। আর সেই টেস্টের প্রথম দিনেই ভয়াবহ ইঙ্গিত মিলল ফলাফল সামনে আসার পর। আজ কলকাতা পুরসভার দুই বরোতে মোট ৮৩ জনের র্যাপিড টেস্ট করা হয়। আর ৮৩ জনের মধ্যে তেরো জনের রেজাল্ট পজিটিভ এসেছে!
আরও পড়ুনঃ এই জেলা টানা ১৫ দিন করোনা মুক্ত! দেখুন জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যান।


কলকাতা পুরসভার মধ্যে থাকা ১৬টি বরোতেই দ্রুত করোনা রোগীদের চিহ্নিত করার জন্যে র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কলকাতা পুরসভা। এদিন চেতলা এবং উত্তর কলকাতায় এই টেস্ট করা হয়। চেতলা থেকে সংগ্রহ করা হয় ৫০ জনের নমুনা এবং উত্তর কলকাতা থেকে ৩৩ জনের নমুনা। চেতলার ৫০ জনের মধ্যে ১০ জন করোনা পজিটিভ বেরিয়েছে এবং উত্তর কলকাতায় ৩৩ জনের মধ্যে ৩ জনের পজিটিভ এসেছে। এই ভাবেই প্রতিদিন ৮০০-১০০০ মানুষের টেস্ট করা হবে কলকাতার ১৬ টি বরোয়।
র্যাপিড টেস্টে ভয়ানক রেজাল্ট; এদিনের মোট ১৩ জন পজিটিভের মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ সংক্রামিতের শরীরে কোন উপসর্গ পাওয়া যায়নি। এখানেই চিন্তা বেড়েছে চিকিৎসকদের। ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন-এর রাজ্য সম্পাদক শান্তনু সেন জানিয়েছেন, “কোভিডের শুরুতে র্যাপিড অ্যান্টিবডি টেস্ট করতে পারলে ভাল হত। কিন্তু আইসিএমআর ত্রুটিযুক্ত কিট পাঠানোর জন্য তা করা যায়নি। পরে আর কিটও পাঠায়নি। এখন রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের উদ্যোগেই র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট শুরু হয়েছে। এতে কম খরচে, কম সময়ে বেশি করোনা রোগী শনাক্ত হবে। এটা খুব ভাল উদ্যোগ।” তাঁর কোথায়, “যাঁরা পজিটিভ হবেন, তাঁদের আর নতুন করে পরীক্ষা করতে হবে না। কিন্তু যাঁরা নেগেটিভ হবেন, তাঁদের আবার টেস্ট করাতে হবে নিশ্চিত হওয়ার জন্য।”
উল্লেখ্য এদিনের বুলেটিনে রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, রাজ্যের সবকটি জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের খোঁজ মিলেছে শহর কলকাতায়। কলকাতায় গত ২৪ ঘন্টায় সংক্রামিত হয়েছেন ৭৫০ জন। যা নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৯৬৯ জন। এদিন কলকাতায় মৃত্যু হয়েছে ১৬ জনের। এই ১৬টি মৃত্যু নিয়ে কলকাতায় করোনা ভাইরাসে সার্বিক মৃত্যু সনহখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৩৯। গত ২৪ ঘন্টায় কলকাতাতে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৬৩৯ জন। যা নিয়ে মোট সুস্থ হয়ে ওঠার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৮০৮ জন। এখন তিলোত্তমায় চিকিৎসাধীন আক্রান্তের সংখ্যা ৬ হাজার ৪২২ জন, যা গতকালের থেকে ৯৫ জন বেশি।









