রাজনৈতিক বক্তব্য ঘিরে আইনি লড়াইয়ের নতুন অধ্যায় শুরু বাংলার রাজনীতিতে। কয়লা ও গরু পাচারকাণ্ড প্রসঙ্গে করা মন্তব্যকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগ তুলে আইনি নোটিস পাঠালেন রাজ্য পুলিশের প্রাক্তন ডিজি রাজীব কুমার। সাত দিনের মধ্যে প্রকাশ্যে ক্ষমা না চাইলে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হবে বলে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে নোটিসে।
রাজীব কুমারের আইনজীবীর দাবি, সাম্প্রতিক একাধিক রাজনৈতিক সভায়—বিশেষ করে শিলিগুড়ির মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি এলাকার জনসভায়—সুকান্ত মজুমদার প্রাক্তন ডিজির নাম জড়িয়ে ভিত্তিহীন ও আপত্তিকর মন্তব্য করেন। ওই বক্তব্যে তাঁর পেশাগত মর্যাদা এবং সামাজিক সম্মান ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে অভিযোগ।

দু’পাতার আইনি নোটিসে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর মন্তব্য সমাজমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, যার ফলে রাজীব কুমার মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সেই কারণেই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায় আদালতের দ্বারস্থ হয়ে ফৌজদারি মানহানির মামলা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে সুকান্ত মজুমদারও পালটা আইনি লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, প্রয়োজন হলে আইনি পথেই জবাব দেওয়া হবে। ফলে বিষয়টি যে রাজনৈতিক ও আইনি—দুই ক্ষেত্রেই নতুন সংঘাতে রূপ নিতে চলেছে, তা স্পষ্ট।
এদিকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই নোটিস প্রসঙ্গে মন্তব্য করে সুকান্তকে তা ‘ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়ার’ পরামর্শ দিয়েছেন, যা বিতর্ক আরও বাড়িয়েছে।


রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক ভাষণের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আইনি পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপও এখন ক্রমশ সাধারণ হয়ে উঠছে।








