নজরবন্দি ব্যুরোঃ কৃষকদের দীর্ঘ আন্দোলনে যারা ‘শহীদ’ হয়েছেন সেই ৭০০ এর অধিক কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেবে না সরকার। তিন কৃষি আইন প্রত্যাহারের পর সরকারের মতিগতি নিয়ে কটাক্ষ কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, সরকার মিথ্যে কথা বলছে। মৃত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেবে না সরকার।
আরও পড়ুনঃ Pegasus Spyware: পেগাসাস কাণ্ডে রাজ্য কমিশনের জিজ্ঞাসাবাদ, রাহুল-পিকে-অভিষেকদের তলব


প্রায় এক বছর ধরে চলতে থাকা দিল্লি উপকন্ঠে কৃষক আন্দোলনে কতজন কৃষকের মৃত্যু হয়েছে? সংসদে এবিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তার জবাব দিতে পারেনি সরকার। এরপরেই সরকারকে তুলোধনা করলেন কংগ্রেস নেতা। কৃষক মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, এবিষয়ে কোনও রেকর্ড নেই। তাই এই প্রশ্ন ওঠার কথা নয়।
এরপরেই রাহুল গান্ধী সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, প্রায় ৫০০ জন পাঞ্জাবের কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। বাকি রাজ্য থেকে প্রায় দু’শোর অধিক কৃষকদের মৃত্যু হয়েছে। আন্দলনরত কৃষকদের দাবী মেনে সরকারের উচিত মৃত কৃষকদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া।



তিনি আরও বলেন, সরকার বলছে তাঁদের কাছে কোনও তথ্য নেই। আসলে সরকার সত্যিটাকে মানতে চাইছে না। আমরা কেন্দ্র সরকারকে বলতে চাই আমরা কিছু হোমওয়ার্ক করে এসেছি। এখনও অবধি ৫০০ জন কৃষকের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। ১৫২ টি পরিবার থেকে চাকরী দেওয়া হয়েছে। বাকি সমস্ত পরিকল্পনা জারি রয়েছে। এই সমস্ত তথ্য আগামী সপ্তাহেই সংসদে পেশ করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। এমনকি নাম ধরে ঠিকানা ধরে সমস্ত তথ্য তিনি তুলে ধরেন।
সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ক্ষমা চেয়ে তিন কৃষি আইন প্রত্যাহার করেছেন এবার তাঁর উচিত শহীদ কৃষকদের পরিবারদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া। এভাবেই প্রধানমন্ত্রীর ব্যবহার করা দরকার। তবে কী মৃত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেবে না সরকার! শুরু হয়েছে জল্পনা।
মৃত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেবে না সরকার, আন্দোলন জারি রাখার সিদ্ধান্ত কৃষকদের

উল্লেখ্য, গত বছরের নভেম্বর মাস থেকে কেন্দ্রের তিন কৃষি আইনের প্রতিবাদে আন্দোলন জারি রেখেছেন কৃষকরা। দীর্ঘ আন্দোলনে প্রায় ৭০০ এর অধিক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। সংসদে তিন কৃষি আইন প্রত্যাহার বিল পাশ হলেও এমএসপির সুনিশ্চিতকরন, মৃত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ সহ একাধিক দাবী সামনে রেখে আন্দোলন জারি রেখেছেন কৃষকরা। সমস্ত দাবী মেনে না নেওয়া অবধি আন্দোলন জারি রাখার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার নেতারা।







