ভোট শেষ হতেই কি বাড়তে চলেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় জ্বালানির দাম? এমনই বিস্ফোরক দাবি করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা Rahul Gandhi। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির চাপে ভারতের অর্থনীতি ইতিমধ্যেই চাপে—আর ভোট মিটলেই সেই প্রভাব সরাসরি পড়বে সাধারণ মানুষের পকেটে।
শনিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে রাহুল গান্ধী বলেন, ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বাড়ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভারতের উপর। তিনি দাবি করেন, “ডলারের তুলনায় টাকার দুর্বলতা এবং শিল্পক্ষেত্রে জ্বালানির খরচ বাড়া আসন্ন মূল্যবৃদ্ধির স্পষ্ট ইঙ্গিত।”
‘ভোটের পরই বাড়বে দাম’
রাহুলের অভিযোগ, বর্তমানে সাধারণ মানুষের উপর চাপ না পড়ার কারণ একটাই—ভোট। তাঁর কথায়, “নির্বাচন মিটলেই পেট্রল, ডিজেল এবং রান্নার গ্যাসের দাম বাড়ানো হবে।”
তিনি আরও দাবি করেন, উৎপাদন ও পরিবহণ খরচ বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে বাজারে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়বে, যা সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলবে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের উপর।
অর্থনীতিতে চাপ বাড়ার আশঙ্কা
বিরোধী দলনেতার মতে—
- টাকার মান দুর্বল হচ্ছে
- জ্বালানির দাম বাড়ছে
- ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে
- বিদেশি বিনিয়োগ কমে যেতে পারে
এই সব মিলিয়ে দেশের অর্থনীতি বড় চাপে পড়তে পারে।
হরমুজ সংকটের প্রভাব
বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে Strait of Hormuz ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে। ইরান হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ করার হুঁশিয়ারি দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাস সরবরাহে বড় ধাক্কার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এর প্রভাব ইতিমধ্যেই পড়তে শুরু করেছে—এলপিজির দাম বেড়েছে, প্রিমিয়াম পেট্রলের দামও কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে সাধারণ পেট্রল-ডিজেলের দাম এখনও অপরিবর্তিত রয়েছে।
রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে
রাহুল গান্ধীর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রের Bharatiya Janata Party সরকারের দীর্ঘমেয়াদি কোনও অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নেই।
যদিও সরকার এখনও এই বিষয়ে সরাসরি প্রতিক্রিয়া দেয়নি, তবে ভোটের আগে এই মন্তব্য যে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, তা বলাই বাহুল্য।



