রবীন্দ্রনাথকে ‘নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী’ বলেই বিতর্কে বিজেপির নতুন সর্বভারতীয় সভাপতি, দুর্গাপুরের সভায় হাসির রোল

দুর্গাপুরের সভায় রবীন্দ্রনাথকে নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী বলে মন্তব্য করে বিতর্কে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীন, কটাক্ষে বিরোধীরা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বুধবার দুর্গাপুরে বিজেপির বর্ধমান বিভাগীয় কার্যকর্তা সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আবারও বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এল ‘বাঙালি অস্মিতা’। বিজেপির নবনিযুক্ত সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীন প্রকাশ্য সভায় দাবি করলেন, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নাকি “শিক্ষার নতুন পদ্ধতি দেওয়ার জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কার” পেয়েছিলেন। মুহূর্তের মধ্যেই সেই বক্তব্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সমাজমাধ্যমে। শুরু হয় ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ, হাসির রোল—সঙ্গে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক।

নীতীন নবীনের এই মন্তব্য ঘিরে একযোগে আক্রমণে নেমেছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। পাশাপাশি সমালোচনায় সরব হয়েছে সিপিএমকংগ্রেস। তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি বরাবরই বাংলার মনীষী ও সংস্কৃতিকে অবজ্ঞা করে এসেছে, এ মন্তব্য তারই সাম্প্রতিক উদাহরণ।

বস্তুত, বাংলার আইকনদের নিয়ে বিজেপি নেতাদের বিতর্কিত মন্তব্য নতুন নয়। অতীতে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে ‘দাদা’ বলে সম্বোধন করে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কবিগুরুকে ‘রবীন্দ্রনাথ স্যানাল’ বলেও সমালোচিত হন। মধ্যপ্রদেশের এক বিজেপি নেতা রাজা রামমোহন রায়কে ‘ইংরেজদের দালাল’ বলার মতো মন্তব্য করেছিলেন। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিজেই।

দুর্গাপুরের সভায় ভোটের আগে সংগঠনের রূপরেখা স্পষ্ট করার বদলে, প্রায় ৩৫ মিনিটের ভাষণে নীতীন নবীন কার্যত মামুলি বার্তাতেই আটকে থাকেন। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর ছিল—“বুথ জিততে হবে, শক্তি কেন্দ্র মজবুত করতে হবে।” কিন্তু কীভাবে বিধানসভা ভোটে লড়াই হবে, বর্ধমান বিভাগের চারটি লোকসভা ও ২৮টি বিধানসভা কেন্দ্রে কৌশল কী—সে বিষয়ে স্পষ্ট দিশা দিতে ব্যর্থ হন তিনি। উল্টে বিতর্কিত মন্তব্য করে বসায় দলের অন্দরেও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

এই মন্তব্যের পর বিজেপির অন্দরেই শুরু হয়েছে জোর চর্চা। ভোটের মুখে এমন ভুল তথ্য ও অসচেতন মন্তব্যে দলের ভাবমূর্তি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক মহলে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন