বারাণসীর জ্ঞানবাপী মসজিদের (Gyanvapi Masjid) নীচে হিন্দু মন্দিরের অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া বা ভারতীয় পুরতত্ত্ব সর্বেক্ষণ (এএসআই)-এর রিপোর্টে। এমনই দাবি করেছেন হিন্দু পক্ষের আইনজীবী বিষ্ণুশঙ্কর জৈন। যদিও আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার (Archaeological Survey of India) পরীক্ষা পদ্ধতির বৈজ্ঞানিক যৌক্তিকতা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। ৮৩৯ পাতার রিপোর্টের কপি খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছে মুসলিম পক্ষ।
আরও পড়ুন: দুর্নীতি জেনেও চুপ ছিলেন? জেরায় স্বীকার বালুর! আদালতে ইডির চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট


বাবরি মসজিদের পর জ্ঞানবাপী। আবারও মসজিদ-মন্দির বিতর্ক! ২০২২ সালে জেলা প্রশাসনের সমীক্ষায় জ্ঞানবাপীর (Gyanvapi Masjid) চত্বর থেকে একটি পাথরখণ্ড উদ্ধার হয়। সেটি কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরের আসল শিবলিঙ্গ বলে দাবি করেছিল হিন্দু পক্ষ। এরপর সেই মূর্তি সারা বছর ধরে পুজো করার অনুমতি চেয়ে বারাণসী আদালতে মামলা করেন পাঁচ মহিলা। সেই মামলার ভিত্তিতেই আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়াকে (Archaeological Survey of India) সমীক্ষার নির্দেশ দেয় আদালত।

পাল্টা মুসলিম পক্ষের তরফে এই সমীক্ষার নির্দেশকে বাতিলের দাবি জানানো হয় সুপ্রিম কোর্টে। সুপ্রিম কোর্ট যদিও বারাণসী আদালতের নির্দেশকেই বহাল রাখে। এরপর গত ২০২৩ সালের ২১ জুলাই হিন্দু পক্ষের আবেদন মেনে জ্ঞানবাপী মসজিদের (Gyanvapi Masjid) কিছু অংশে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়াকে (Archaeological Survey of India) সমীক্ষা চালাবার অনুমতি দেয় বারাণসী আদালত। সেই মতো গত ১৮ ডিসেম্বর আদালতে মুখবন্ধ খামে সমীক্ষার রিপোর্ট জমা দিয়েছিল এএসআই। সেই রিপোট প্রকাশ্যে আনার দাবি জানিয়েছিল হিন্দু পক্ষ। বৃহস্পতিবার প্রকাশ্যে এল সেই রিপোর্ট।



সেই রিপোর্ট থেকে হিন্দু পক্ষের আইনজীবী বিষ্ণুশঙ্কর জৈন দাবি করেছেন, জ্ঞানবাপী মসজিদের (Gyanvapi Masjid) নীচে হিন্দু মন্দিরের অস্তিত্ব পেয়েছে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (Archaeological Survey of India)। দেবনগরী, তেলুগু, কন্নড় ও অন্যান্য ভাষায় লেখা পাওয়া ৩৪টি লিপি উদ্ধার হয়েছে গিয়েছে মসজিদ থেকে। পাশাপাশি, মন্দিরের কাঠামোকে ব্যবহার করেই নির্মাণ করা হয় মসজিদ বলে উল্লেখ রয়েছে রিপোর্টে।
জ্ঞানবাপী মসজিদের নীচেও হিন্দু মন্দিরের অস্তিত্ব! ASI রিপোর্টের পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে উঠছে প্রশ্ন
রিপোর্টে আরও উল্লেখ আছে, মুঘল সম্রাট ঔরঙ্গজেব ১৬৬৯ সালের ২ নভেম্বর মন্দির ভেঙে জ্ঞানবাপী মসজিদ (Gyanvapi Masjid) নির্মাণের ফরমান দিয়েছিলেন। মন্দিরের পক্ষে মোট ৩২টি প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে বলে জানিয়েছেন হিন্দু পক্ষের আইনজীবী বিষ্ণুশঙ্কর জৈন। কিন্তু, ঠিক কোন পদ্ধতি অবলম্বন করে সমীক্ষা চালায় আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে মুসলিম পক্ষ।
জানা যায়, ‘গ্রাউন্ড পেনিট্রেটিং রাডার’ ব্যবহার করে মাটির নীচের তথ্যকে উদ্ধার করার চেষ্টা করেছে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (Archaeological Survey of India)। কিন্তু কার্বন ডেটিং পরীক্ষা করা হয়নি। এ নিয়েও রয়েছে বিতর্ক। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, শিলার বয়স নির্ধারণে কার্বন ডেটিং পরীক্ষা খুব কার্যকর নয়। এটি মূলত জীবাশ্ম বা দেহাবশেষের বয়স নির্ধারণ করতে কাজে আসে। যদিও কার্বন ডেটিং পরীক্ষার জন্যও পৃথক আবেদন হয়েছে আদালতে।

সবমিলিয়ে, বাবরি মসজিদের পর আবারও শিরোনামে জ্ঞানবাপী (Gyanvapi Masjid)। এই রিপোর্ট যদিও হিন্দু ও মুসলিম উভয় পক্ষই পড়বে। কিন্তু, এই রিপোর্টে যদি হিন্দু মন্দিরের অস্তিত্ব প্রমাণ হয় এবং আদালত তাতে স্বীকৃতি দেয় তাহলে কি আবারও কি কাশী বিশ্বনাথ মন্দির আবার সেজে উঠবে? কারণ, বিজেপি সরকারের আমলে মন্দির তৈরি নতুন কোনও বিষয় নয়। বাবরি মসজিদের জায়গায় রামমন্দির নির্মাণ ও উদ্বোধনের ঘটনা যেখানে খুব বেশি প্রাচীন নয়।







