শিল্পক্ষেত্রের অক্সিজেন থেকেই কি ব্ল্যাক ফাঙ্গাস সংক্রমণ? জারি পক্ষ-বিপক্ষের যুক্তি

শিল্পক্ষেত্রের অক্সিজেন থেকেই কি ব্ল্যাক ফাঙ্গাস সংক্রমণ? চলছে পক্ষে-বিপক্ষের যুক্তি
শিল্পক্ষেত্রের অক্সিজেন থেকেই কি ব্ল্যাক ফাঙ্গাস সংক্রমণ? চলছে পক্ষে-বিপক্ষের যুক্তি

নজরবন্দি ব্যুরোঃ শিল্পক্ষেত্রের অক্সিজেন থেকেই কি ব্ল্যাক ফাঙ্গাস সংক্রমণ? দেশ জুড়ে আলোচনা চলছে, উঠে আসছে পক্ষে বিপক্ষে যুক্তি। একেই দীর্ঘ কাল ধরে রাজ্য-দেশ-গোটা বিশ্ব ভুগছে করোনার কবলে। দিকে দিকে হাহাকার অক্সিজেন-বেড-টিকার। এবছরের শুরুর দিকেই প্রবল দাপট নিয়ে ভারতে আছড়ে পড়েছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে সরকার-প্রশাসন। দিনে দিনে বাড়ছে সংক্রমণ, পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যু।

আরও পড়ুনঃ ঘরের দায়িত্ব পরের হাতে! দিঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদ সামলাবেন অ্যান্টি অধিকারী জ্যোতির্ময়

ইতিমধ্যেই ব্ল্যাক ফাঙ্গাস বাসা বাঁধছে মানুষের শরীরে। শুধু দিল্লিতেই  ব্ল্যাক ফাঙ্গাস সংক্রমণ ধরা পড়েছে ১৯৭ জনের দেহে।আসামেও একাধিক শরীরে বাসা বেঁধেছে কালো ছতাক। দিল্লিকে ২০০০ ভায়াল অ্যামফোটেরিসি-বি ইঞ্জেকশন জোগানোর আশ্বাস দিয়েছে কেন্দ্র। ব্ল্যাক ফাঙ্গাসকে মহামারী আখ্যা দিয়েছে কেন্দ্র। বাংলাতেও এই সংক্রমণের প্রভাবে মৃত্যু হয়েছে একজনের। স্বাস্থ্য দফতর থেকে জারি করা হয়েছে একাধিক নিয়মাবলী। কিন্তু আতঙ্কেও মাঝেও প্রশ্ন উঠছে এই ব্যাপক ভাবে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস ছড়িয়ে পড়ার কারণ কী?

এতদিনের পর্যালোচনায় বারবার উঠে এসেছিলো করোনা আক্রান্ত রোগীদের অতিমাত্রায় স্টেরয়েড দেওয়ার ফলেই শরীরের ভেতরে বাসা বাঁধছে কালো ছত্রাক। কিন্তু এমসের রিউমেটোলজি বা বাতসংক্রান্ত বিভাগের চিকিৎসক উমা কুমার নতুন কিছুর আন্দাজ করছেন। তাঁর প্রশ্ন বিগত কয়েক মাসে দেশ জুড়ে অক্সিজেনের সংকট কালে একাধিক জায়গায় শিল্পক্ষেত্রের অক্সিজেন ব্যবহার করা হয়েছে। শিল্পক্ষেত্রের অক্সিজেন মানুব শরীরে ব্যবহারই এই ছতাককে ডেকে আনছে কিনা সেই প্রশ্নই রেখেছেন তিনি।

তিনি ট্যুইট করেছেন,  “লক্ষাধিক বাতের রোগীর উপরে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে স্টেরয়েড ব্যবহার করেছি। কিন্তু গত কয়েক সপ্তাহের মতো মিউকরমাইকোসিসের রোগী দেখিনি। কোভিডের কারণে আক্রান্ত ব্যক্তির দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে যাওয়াতেই কি মিউকরমাইকোসিস-কে ডেকে আনছে? নাকি হঠাৎ করে চাহিদা মেটাতে শিল্পক্ষেত্রের অক্সিজেন স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে ব্যবহার করার ফলে মিউকরমাইকোসিস ছড়াচ্ছে? ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চকে বিশয়টি খতিয়ে দেখার অনুরোধ করেছেন তিনি।

গত কয়েকমাসে দেশ জুড়ে অক্সিজেনের প্রবল সংকটের সময়ে শিল্পক্ষেত্র গুলি থেকেন অক্সিজেন ভরে এনে তা দেওয়া হয়েছে মূমূর্ষ রোগীদের। ঘাটতি মেটাতে দেশের শিল্পক্ষেত্রগুলিকে বরাত দেওয়া হয়েছে অক্সিজেন উৎপন্নের। যদি শিল্পক্ষেত্রের অক্সিজেন কারন হয় ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের, ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে তাহলে রাও একবার দেশের মহামারীর কারণ হিসেবে কাঠ গড়ায় দাঁড়াবে মোদী সরকার।

শিল্পক্ষেত্রের অক্সিজেন থেকেই কি ব্ল্যাক ফাঙ্গাস সংক্রমণ? তবে সংক্রামক বিশেষজ্ঞরা অনেকেই তা মানছেন না। তাঁদের মতে শিল্পক্ষেত্রে যেভাবে লিকুইড অক্সিজেন তৈরি হয় তা বিশুদ্ধ এবং পরিশোধিত। বাতাস থেকে একাধিক প্রক্রিয়ায় অক্সিজেন ছেঁকে বের করে নেওয়া হয়। তার পর থেকে সিলিন্ডারে ভরা, প্রতি পদক্ষেপে জারি থাকে একাধিক নিয়মাবলী। কড়া সতর্কতায় সমগ্র প্রসেস সম্পন্ন হয়। সেক্ষেত্রে তাঁরা মনে করছেন সিলিন্ডার থেকে শরীরে যাওয়ার পদ্ধতির মাধ্যমেই ছড়াচ্ছে ইনফেকশন। সেক্ষেত্রে অক্সিজেন নল এবং অক্সিজেন মাস্ক ভালো ভাবে পরিশোধিত করার কথা বলেছেন তাঁরা।

এদিকে এই কঠিন পরিস্থিতিতে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস রুখতে স্বাস্থ্য দফতর জারি করেছে একাধিক নিয়মাবলী।

সেখানে বলা হয়েছে-

. ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের সংক্রমণ এড়াতে প্রত্যেককে সঠিক ভাবে মাস্কের ব্যবহার করতে হবে। প্রয়োজনে দুটি করে মাস্ক ব্যবহারের কথা বলেছে।

. বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে ধুলো-বালিময় এলাকা বা কোন নির্মাণস্থলে গেলে।

. নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বাগানে বা মাটির কাজের ক্ষেত্রে। সেক্ষেত্রে অধিক সতর্কতা জারি করা হয়েছে। স্বাস্থ্য দফতরের তরফে জানানো হয়েছে  বাগানে বা মাটি নিয়ে কাজ করলে, জুতো, লম্বা ঝুলের ট্রাউজার, ফুল স্লিভ শার্ট এবং গ্লাভস পরা একান্ত জরুরি।

. কোভিড-পরবর্তী ও ডায়াবেটিক রোগীদের ক্ষেত্রে  রক্তে শর্করার মাত্রায় নজর রাখতে হবে।

. বাকি করোনার সাধারণ বিধি মানতে হবে সঠিক ভাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here