রাজ্য রাজনীতিতে যেখানে বাম ও তৃণমূল একে অপরের তীব্র বিরোধী, সেখানেই একেবারে উল্টো ছবি ধরা পড়ল পূর্ব মেদিনীপুরে। বিজেপিকে হারাতে সমবায় নির্বাচনে কার্যত হাত মিলল বাম ও তৃণমূল— এমন ঘটনাই সামনে এসেছে চণ্ডীপুর বিধানসভা এলাকার গোবর্ধনপুরে। স্থানীয় রাজনীতিতে এই ফলাফল ঘিরে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা— তবে কি ভোটের অঙ্কে বদলাচ্ছে পুরনো শত্রুতার সমীকরণ?
পূর্ব মেদিনীপুরের গোবর্ধনপুর সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির নির্বাচনে বিজেপিকে কোণঠাসা করতেই এই অপ্রত্যাশিত বোঝাপড়ার ছবি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে দাবি রাজনৈতিক মহলের একাংশের।
সমবায় ভোটে কী ঘটল গোবর্ধনপুরে
গোবর্ধনপুর সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির নির্বাচনে মোট ৯টি আসনে ভোট হয়। এর মধ্যে ৭টি আসনে প্রার্থী দেয় তৃণমূল, আর বাকি ২টি আসনে লড়েন বাম সমর্থিত প্রার্থীরা। ফলাফলে দেখা যায়, এই ৯টি আসনেই জয়ী হন তৃণমূল ও বামেদের জোট প্রার্থীরা। অর্থাৎ একটি আসনেও সাফল্য পায়নি বিজেপি।
বাম শিবিরের ব্যাখ্যা
জেলার এক বাম নেতার দাবি, প্রথমে সমবায় সমিতির ৯টি আসনের মধ্যে ৫টি আসনে বামেদের প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু পরে বামফ্রন্ট নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৩ জন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন।
তবে দু’জন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার না করায় শেষ পর্যন্ত তাঁরা নির্বাচনে থেকে যান এবং জয়ী হন। বাম নেতৃত্বের মতে, স্থানীয় পরিস্থিতি বিচার করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
বিজেপি ঠেকানোই কি মূল লক্ষ্য?
এই ফলাফল সামনে আসতেই প্রশ্ন উঠেছে— বিজেপিকে আটকাতেই কি বাম ও তৃণমূলের মধ্যে এই অলিখিত সমঝোতা? স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সমবায় ভোটে দলীয় পরিচয়ের চেয়েও প্রভাবশালী হয়ে ওঠে ক্ষমতার অঙ্ক ও সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ। সেই জায়গা থেকেই বাম ও তৃণমূলের মধ্যে এই অস্থায়ী বোঝাপড়া হতে পারে।
যদিও প্রকাশ্যে কোনও দলই ‘জোট’-এর কথা স্বীকার করেনি, তবে ফলাফলই বলছে— বিজেপির বিরুদ্ধে এক ছাতার তলায় দাঁড়ানোর কৌশল যে কার্যকর হয়েছে, তা অস্বীকার করার জায়গা নেই।
রাজনৈতিক মহলে জল্পনা
পূর্ব মেদিনীপুরে এই ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে। বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচনে যেখানে তৃণমূল-বাম সংঘর্ষ চরমে, সেখানে সমবায় ভোটে এই সমীকরণ অনেকের কাছেই বিস্ময়কর।
অনেকে মনে করছেন, বিজেপি-র উত্থান ঠেকাতে ভবিষ্যতে স্থানীয় স্তরে এমন আরও অপ্রত্যাশিত সমীকরণ দেখা যেতে পারে।
সব মিলিয়ে, গোবর্ধনপুরের সমবায় নির্বাচন দেখিয়ে দিল— ভোটের অঙ্কে প্রয়োজনে রাজনৈতিক শত্রুতাও সাময়িক ভাবে পিছনের সারিতে চলে যেতে পারে।



