দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করার দায়িত্ব ছিল যাঁর হাতে, তিনিই এখন দুর্নীতির পাহাড়ে চাপা পড়েছেন। CBI Arrests Punjab IPS Officer Harcharan Singh Bhullar — এই খবরেই এখন সরগরম গোটা প্রশাসনিক মহল। রোপার রেঞ্জের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল পদে কর্মরত এই আইপিএস অফিসারের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ, সোনা ও বিলাসবহুল সামগ্রী।
সিবিআই সূত্রে খবর, ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৮ লক্ষ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে শুরু হয়েছিল তদন্ত। সেই সূত্র ধরেই সামনে আসে এক ভয়ঙ্কর দুর্নীতির চিত্র।
৫ কোটি নগদ, দেড় কেজি সোনা, অডি-মার্সিডিজ দাঁড়ানো প্রাসাদে সিবিআই হানা
চণ্ডীগঢ়, মোহালি ও রোপারে একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালায় সিবিআই। অভিযুক্ত হরচরণ সিং ভুল্লারের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় ৫ কোটি টাকার নগদ অর্থ, দেড় কেজি সোনার গহনা, ২২টি দামি ঘড়ি, অডি ও মার্সিডিজসহ একাধিক লাক্সারি গাড়ি। শুধু তাই নয়, উদ্ধার হয়েছে ৪০ লিটার বিদেশি মদ, পিস্তল, রিভলভার, শটগান ও এয়ারগান— সব মিলিয়ে এক অন্ধকার সাম্রাজ্যের চিত্র ফুটে উঠেছে।
সিবিআই জানায়, নগদ গণনার কাজ এখনও চলছে। পাশাপাশি জব্দ করা হয়েছে একাধিক নথি ও সম্পত্তির কাগজ, যা আরও বড় আর্থিক তছরুপের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ঘুষকাণ্ডের সূত্রপাত ৮ লক্ষ টাকায়
ব্যবসায়ী আকাশ বাট্টা অভিযোগ করেন, এক ক্রিমিনাল কেস ধামাচাপা দিতে ডিআইজি ভুল্লার ৮ লক্ষ টাকা ঘুষ দাবি করেছিলেন। তিনি বলেন, টাকা না দিলে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরই নড়ে বসে সিবিআই।
চণ্ডীগঢ়ের সেক্টর ২১-এ ফাঁদ পেতে, ঘুষ নিতে আসা মধ্যস্থতাকারী কৃষ্ণাকে হাতেনাতে ধরে ফেলে সিবিআই। জেরার পরই ভুল্লারকে তাঁর অফিস থেকে গ্রেফতার করা হয়।
মিডলম্যান কৃষ্ণার বাড়ি থেকেও উদ্ধার হয় ২১ লক্ষ টাকা নগদ। দু’জনকেই শুক্রবার আদালতে পেশ করা হবে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, এই ঘুষের চক্র আরও বড় এবং এর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন প্রশাসনের আরও কিছু সদস্য।
দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, কিন্তু চরিত্রে কালো দাগ
২০০৯ ব্যাচের আইপিএস অফিসার হরচরণ সিং ভুল্লার দীর্ঘদিন ধরে পঞ্জাব পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। তিনি পাটিয়ালা রেঞ্জের ডিআইজি ছাড়াও মোহালি, সাঙ্গুর, খান্না, হোসিয়ারপুর, ফতেহগড় সাহিব ও গুরদাসপুরের ভিজিল্যান্স ব্যুরোর জয়েন্ট ডিরেক্টর ছিলেন।
২০২১ সালে তিনি অকালি নেতা বিক্রম সিং মাজিথার মাদক পাচার মামলার তদন্তের দায়িত্বেও ছিলেন। ironical হলেও সত্য, দুর্নীতি দমন ইউনিটে থেকেই আজ তিনি নিজেই দুর্নীতির জালে বন্দি।
দুর্নীতির পাহাড়ে দাঁড়ানো আইপিএস, সিবিআইয়ের সামনে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্যের সম্ভাবনা
প্রাথমিক তদন্তে সিবিআই মনে করছে, হরচরণ সিং ভুল্লার নিয়মিতভাবে ঘুষের টাকা কিস্তিতে নিতেন। তাঁর নামে একাধিক বেনামী সম্পত্তিরও খোঁজ মিলেছে। এখন নজর তল্লাশির দ্বিতীয় পর্বে— যেখানে আরও অর্থ ও সোনা উদ্ধার হতে পারে বলে আশঙ্কা।
এই ঘটনার পর পঞ্জাব প্রশাসনে ব্যাপক চাঞ্চল্য। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন— যাঁরা দুর্নীতি রুখবেন, তাঁরা যদি নিজেরাই দুর্নীতির আসনে বসেন, তাহলে ন্যায়বিচার কোথায়?



