নজরবন্দি ব্যুরোঃ মধ্যরাতে টেট পাশ চাকরি প্রার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে শনিবার বিকেলে রাজপথে বিশিষ্টজনদের সমাবেশ। উপস্থিত ছিলেন পবিত্র সরকার, অনিক দত্ত, রাহুল সরকার, বদশা মৈত্র, শ্রীলেখা মৈত্র মন্দাক্রান্তা সেন সহ অন্যান্যরা। উপস্থিত রয়েছেন বিমান বসু, আবদুল মান্নানদের মত নেতৃত্ব। ভিক্টোরিয়া হাউজ থেকে মিছিলও সোজা যাবে গান্ধী মূর্তির পাদদেশ অবধি।
আরও পড়ুনঃ আলোক উৎসবে বঞ্চিত হবু শিক্ষকরা, অন্ধকারে দিন কাটছে ধর্নামঞ্চে
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে টেট পাশের পরে কেটে গেছে দীর্ঘ ৮ বছর। তবুও এখনও অবধি নিয়োগ পাননি। এখন সরকারের নয়া বিজ্ঞপ্তির বিরুদ্ধে সোমবার থেকে সল্টলেকে করুণাময়ীতে দীর্ঘ আন্দোলনে শামিল হন চাকরি প্রার্থীরা। তাঁদের বক্তব্য ছিল, এর আগেও ইন্টারভিউ দিয়েছে তাঁরা। তাহলে সরকার সরাসরি নিয়োগ করছে না কেন?
সরকারের অনমনীয় মনোভাবের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ৮৪ ঘন্টা ধরে অনশন শুরু করেন চাকরি প্রার্থীরা। এদিকে বৃহস্পতিবারই এপিসি ভবনের সামনে ১৪৪ ধারা লাগু করার নির্দেশ দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতের নির্দেশ পেতেই তৎপর হয় প্রশাসন। সন্ধ্যে বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই আন্দোলনস্থলে বাড়তে থাকে পুলিশের বহর। এরপর রাত সাড়ে ১২ টা নাগাড় শুরু হয় পুলিশের ধরপাকড়। চাকরি প্রার্থীদের জোর করে টেনে হিঁচড়ে তুলে নিয়ে আয় পুলিশ।

সেই ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল ফের আন্দোলনে নামে বাম ছাত্র যুব নেতৃত্ব। ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে করুণাময়ী। আজ শহরের মধ্যস্থলে মিছিলের আয়োজন করা হয়েছে। সেই মিছিলে শামিল হয়েছে বিশিষ্টজনেরা। সেই মিছিলে চলছে স্লোগান। আবার কোথাও শোনা যাচ্ছে পথে নামার গান। মিছিলে শামিল হয়েছেন বিরাট সংখ্যক মানুষ। চাকরি প্রার্থীদের ওপর যে অত্যাচার হয়েছে, তার প্রতিবাদে চলে স্লোগান।
এদিনের মিছিল থেকে অভিনেত্রী শ্রীলেখা মৈত্র বলেন, প্রশাসন যদি না কথা শোনে, পুলিশ যদি না কথা শোনে তাহলে চাকরি চলে যাবে। আগামী দিনে যাতে এই মন্ত্রীসভা যাতে না থাকে সেটাই আমরা চাইব। আগামী দিনে যাতে হকের লড়াই না করতে হয়, সেকারণেই আজ সরব হয়েছিল আমরা।
প্রশাসন যদি ব্যর্থ হয় তার বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক পথে আন্দোলন করা যায়। কিন্তু প্রশাসন যদি পাগল হয়, মানসিক ভারসাম্যহীন হয়, সেখানে আমরা কী আন্দোলন করব? এখন প্রশাসনকে যতদিন না তাড়ানো যায়, যতদিন না মানুষকে বাঁচানো যায়, ততদিন আন্দোলন করতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে বিভিন্ন সময় যেভাবে বিভিন্ন কথা বলেন, তা মানসিক ভারসাম্যহীন ছাড়া হয় না। স্পশট বার্তা আবদুল মান্নানের।
রাজপথে বিশিষ্টজনদের সমাবেশ, গানের সঙ্গে উঠল স্লোগান

পবিত্র সরকার এদিন বলেন, অন্যায় করে চাকরি প্রার্থীদের বঞ্চিত করা হয়েছে। কোটি কোটি টাকা নিয়ে অযোগ্যদের চাকরি দেওয়া হয়েছে। সারা দেশ সেটা দেখেছে। চাকরি প্রার্থীরা শান্তি ভঙ্গ করেনি। তার মধ্যে অন্ধকারে পুলিশ কাপুরুষের মতো তুলে নিয়ে গেছে। এই নিষ্ঠুরতা শেষ হওয়া দরকার।



