এক সময় বাংলা ছবির মানে ছিল তিনটি নাম—প্রসেনজিৎ, চিরঞ্জিত, রঞ্জিত। বছর কেটে গেলেও সেই স্মৃতির রেশ আজও অমলিন। আর ঠিক সেই নস্টালজিয়াতেই নতুন করে ঢেউ তুললেন ‘কাকাবাবু’ খ্যাত প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। বহু বছর পর ফের এক ফ্রেমে ফিরছেন প্রসেনজিৎ ও চিরঞ্জিত চক্রবর্তী, আর সেই সঙ্গে যোগ হতে পারেন রঞ্জিত মল্লিকও। ইঙ্গিত স্পষ্ট—টলিউডে ফের বড়সড় পুনর্মিলনের সময় এসে গিয়েছে।
দীর্ঘ বিরতির পর ফের একসঙ্গে বড় পর্দায় দেখা যাবে Prosenjit Chatterjee ও Chiranjeet Chakraborty-কে। সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত Bijoynagarer Heere-তে কাকাবাবুর মেন্টরের চরিত্রে অভিনয় করেছেন চিরঞ্জিত। একটা সময় যাঁদের জুটি একের পর এক সুপারহিট উপহার দিয়েছে, মাঝের বছরগুলোয় সেই সম্পর্ক নিয়ে নানা গুঞ্জন শোনা গেলেও, এ বার সব দূরত্ব পেরিয়ে আবার একসঙ্গে তাঁরা।

কিন্তু এখানেই শেষ নয়। আসল চমকটা দেন প্রসেনজিৎ নিজেই। প্রকাশ্যে ঘোষণা করে তিনি বলেন,
“দীপকদাকে নিয়ে একটা বড় ছবি করতে চলেছি। শুধু তাই নয়, ওই ছবিতে রঞ্জিতদাকেও রাখব। তিন জন একসঙ্গে কাজ করব।”
এই ঘোষণায় কার্যত উত্তেজনায় ফেটে পড়েছে টলিউড।
প্রসেনজিতের কথায় সম্মতি জানিয়ে Chiranjeet Chakraborty-ও স্পষ্ট করে দেন তাঁর আগ্রহের কথা। সংক্ষেপে জানিয়ে দেন—
“ভালো স্ক্রিপ্ট হলে আমি তৈরি।”
‘বিজয়নগরের হীরে’ ছবিতে প্রথম দিনের শুটিং ছিল আবেগে ভরা। প্রসেনজিতের কথায়, সেটে যেন ফিরে এসেছিল পুরনো সময়।
“সেদিন সকলে বলছিল—এই তো সেই আগের বুম্বাদা আর দীপকদা। অনেকের চোখে জল দেখেছি। আমাদের সম্পর্কটা এমনই—রাত দু’টোয় ফোন করলেও কোনও দ্বিধা নেই।”


তিনি স্মরণ করিয়ে দেন সেই সময়ের কথা, যখন Ghar Sansar-এ একসঙ্গে ছিলেন Ranjit Mallick, তাপস পাল, চিরঞ্জিত ও নিজে। ছবিটি ৫০ সপ্তাহ চলেছিল, ‘বন্ধু আপনজন’ গান আজও লোকের মুখে মুখে ফেরে। প্রসেনজিতের মতে, সেই ঐতিহ্যের কারণেই ‘বিজয়নগর’-এর টিমের কাছে চিরঞ্জিতই ছিলেন প্রথম ও একমাত্র পছন্দ।
চিরঞ্জিতও সম্পর্কের গভীরতা লুকোননি। তাঁর কথায়,
“ইমোশনাল না হলে আর্টিস্ট হওয়া যায় না। একসঙ্গে কাজ না করলেও আমাদের বন্ধন ভীষণ শক্ত। রঞ্জিতদার বাড়িতে আড্ডা হয়, ফোনে কথা হয়—এই যোগাযোগটাই আসল।”

সব মিলিয়ে ইঙ্গিত স্পষ্ট—যদি পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়, তবে টলিউড আবারও পেতে চলেছে তার আইকনিক ত্রয়ীকে। শুধু ছবি নয়, ফিরতে পারে একখণ্ড ইতিহাস।








