বাংলা ছবির দর্শকের কাছে তিনি শুধুই একজন অভিনেতা নন—একটা আবেগ, একটা যুগ। আর সেই কারণেই ২০২৬ সালের পদ্ম পুরস্কার ঘোষণায় বড় চমক হয়ে উঠল প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের নাম। কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, এবার ‘পদ্মশ্রী’ সম্মানে ভূষিত হচ্ছেন বাংলা চলচ্চিত্রের মেগাস্টার প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়—যাকে ইন্ডাস্ট্রি থেকে শুরু করে অনুরাগীরা একনামে চেনেন ‘বুম্বাদা’ হিসেবে।
প্রজাতন্ত্র দিবসের আগে পদ্ম পুরস্কারের তালিকা প্রকাশ করেছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। সাহিত্য, ক্রীড়া, চারুকলা, বিজ্ঞান, চিকিৎসা, শিক্ষা, সমাজসেবা-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশের কৃতীদের হাতে এই সম্মান তুলে দেওয়া হবে। বিনোদন জগত থেকেও একাধিক বিশিষ্ট নাম রয়েছে তালিকায়। সেই তালিকায় অন্যতম উজ্জ্বল সংযোজন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। পাশাপাশি নাম রয়েছে জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী অলকা ইয়াগনিকেরও।
প্রসেনজিতের অভিনয়জীবন শুরু হয়েছিল খুব অল্প বয়সেই। ১৯৬৮ সালে শিশুশিল্পী হিসেবে বড়পর্দায় আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। ঋষিকেশ মুখোপাধ্যায়ের পরিচালনায়, বাবা বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে ‘ছোট্ট জিজ্ঞাসা’ ছবিতে অভিনয় করেই নজর কাড়েন ছোট্ট প্রসেনজিৎ। মাত্র ছ’বছর বয়সেই নিজের প্রতিভার জোরে পেয়েছিলেন একাধিক পুরস্কার ও স্বীকৃতি।

নায়ক হিসেবে তাঁর উত্থান শুরু হয় পরবর্তী কয়েক বছর পর। ১৯৮৩ সালে মুক্তি পায় ‘দু’টি পাতা’। তবে প্রসেনজিৎ যে সত্যিকারের তারকা হয়ে ওঠেন, তার মোড় ঘোরানো অধ্যায় আসে ১৯৮৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘অমরসঙ্গী’ ছবির মাধ্যমে। সেই ছবির বিপুল জনপ্রিয়তাই তাঁকে পৌঁছে দেয় বাঙালির হৃদয়ের একেবারে কেন্দ্রস্থলে।
এর পরের ইতিহাস তো বাংলা সিনেমারই এক বিস্তৃত অধ্যায়—যেখানে প্রসেনজিৎ শুধুই সফল অভিনেতা নন, বরং ইন্ডাস্ট্রির এক নির্ভরযোগ্য মুখ, নতুন প্রজন্মের কাছে অভিভাবক এবং দর্শকের কাছে দীর্ঘদিনের ভালোবাসার নাম।
২০২৬ সালের পদ্মশ্রী সম্মান তাঁর সেই দীর্ঘ অভিনয়যাত্রার প্রতি এক বড় স্বীকৃতি বলেই মনে করছে টলিউড। বহু দশক ধরে বাংলা চলচ্চিত্রকে নিজের কাঁধে টেনে নিয়ে যাওয়া এই মেগাস্টারের অর্জনে খুশির হাওয়া বইছে ইন্ডাস্ট্রিজুড়ে।



