মাদুরোর পর মোদীকেও অপহরণ করবেন ট্রাম্প? প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ের মন্ত্রীর মন্তব্যে তীব্র বিতর্ক

ভেনেজুয়েলার ঘটনার সঙ্গে ভারতের তুলনা টেনে ট্রাম্প–মোদী প্রসঙ্গে বিস্ফোরক প্রশ্ন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পৃথ্বীরাজ চহ্বাণের, দেশজুড়ে শুরু বিতর্ক।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ভেনেজুয়েলার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক–সামরিক টানাপোড়েন টেনে এনে ভারতের প্রসঙ্গে বিস্ফোরক প্রশ্ন তুললেন কংগ্রেস নেতা ও প্রাক্তন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী পৃথ্বীরাজ চৌহান। মুম্বইয়ের এক আলোচনাসভায় তাঁর মন্তব্য—“ভেনেজুয়েলায় যা হয়েছে, তেমন কিছু কি ভারতে হতে পারে? ডোনাল্ড ট্রাম্প কি আমাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-কেও তুলে নিতে পারেন?”—এই প্রশ্ন ঘিরেই দেশজুড়ে রাজনৈতিক ঝড় ও সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র কটাক্ষ শুরু হয়েছে।

চহ্বাণের বক্তব্যের প্রেক্ষাপট ছিল ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো-কে ঘিরে মার্কিন পদক্ষেপের আলোচনা। তাঁর যুক্তি—যদি কোনও সার্বভৌম রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধানকে এভাবে লক্ষ্য করা যায়, তা হলে ভবিষ্যতে অন্য দেশও কি একই ধরনের ‘অপ্রত্যাশিত’ পরিস্থিতির মুখে পড়তে পারে না? এই তুলনাই রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় কটাক্ষ ও সমালোচনা
মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই নেটদুনিয়ায় সমালোচনার ঝড় ওঠে। বহু ব্যবহারকারী একে “অবাস্তব”, “অযৌক্তিক” ও “হাস্যকর” বলে ব্যঙ্গ করেন। পরমাণু শক্তিধর ও কূটনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ভারতের সঙ্গে ভেনেজুয়েলার তুলনা টানাকে অনেকেই রাজনৈতিক অপরিপক্বতার উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। একাধিক পোস্টে বক্তব্যটিকে ‘জোক’ থেকে ‘জাতির মর্যাদাহানিকর’ বলেও আখ্যা দেওয়া হয়।

প্রাক্তন ডিজিপি এসপি বৈদের কড়া আক্রমণ
এই মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছেন জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন ডিজিপি S. P. Vaid। তাঁর কথায়, “ভেনেজুয়েলার ঘটনার সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর তুলনা করা গোটা দেশের জন্য অপমানজনক। কথা বলার আগে একবার ভাবা উচিত। না কি এটাই এখন কংগ্রেসের আদর্শ?” জাতীয় নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ভারতের অবস্থান স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি মন্তব্যটিকে দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে আখ্যা দেন।

শুল্ক–বাণিজ্য বিতর্কে চহ্বাণের বক্তব্য
চহ্বাণের এই মন্তব্য এসেছে এমন এক সময়ে, যখন ভারত–আমেরিকা বাণিজ্য ও শুল্ক ইস্যুতে চাপ বাড়ছে। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে ইতিমধ্যেই ট্রাম্পের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করেছেন। রাশিয়া থেকে তেল আমদানি এবং তার জেরে উচ্চ শুল্ক চাপানোর সম্ভাবনা নিয়েই মূলত বিতর্ক। চহ্বাণের অভিযোগ, “৫০ শতাংশ শুল্ক বসালে দুই দেশের বাণিজ্য কার্যত অচল হয়ে যাবে। নিষেধাজ্ঞা না দিয়ে শুল্ককে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।”

‘মোগাম্বো খুশ হুয়া’ কটাক্ষে বিতর্ক আরও চড়া
এই আবহেই খাড়গে ট্রাম্পের একটি অডিও ক্লিপের উল্লেখ করে দাবি করেন, যেখানে ট্রাম্প বলেন—মোদী তাঁকে ‘খুশি করতে চান’। সেই প্রসঙ্গে খাড়গের ‘মিস্টার ইন্ডিয়া’-র সংলাপ—‘মোগাম্বো খুশ হুয়া’—রাজনৈতিক আগুনে ঘি ঢালে।

পরিসংখ্যান বলছে অন্য কথা
সব বিতর্কের মাঝেও সরকারি তথ্য অন্য ছবি তুলে ধরছে। নভেম্বর মাসে আমেরিকায় ভারতের রফতানি বেড়েছে ২২.৬১ শতাংশ। চলতি অর্থবর্ষের এপ্রিল–নভেম্বর সময়ে মোট বৃদ্ধি ১১.৩৮ শতাংশ, আর্থিক মূল্যে প্রায় ৫৯ বিলিয়ন ডলার।

সব মিলিয়ে, ভেনেজুয়েলা প্রসঙ্গ টেনে চহ্বাণের প্রশ্ন দেশকে খাটো করার উদ্দেশ্যে নয়—এমন ব্যাখ্যাও উঠে আসছে। অনেকের মতে, তাঁর লক্ষ্য ছিল মার্কিন অভিযানের সমালোচনা এবং নয়াদিল্লির নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা। তবে রাজনৈতিক বাস্তবতায় সেই মন্তব্যই এখন বিতর্কের কেন্দ্রে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন