নজরবন্দি ব্যুরো: শুভেচ্ছা জানাতে ফোন আসেনি প্রধানমন্ত্রীর, এরকমটা ঘটলো প্রথম বার। গত কাল মোদীর গেরুয়া শিবিরকে কার্যত একপাশে দাঁড় করিয়ে নিজের দল নিয়ে বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে গেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২৯২ আসনের ফলাফলে ২০০ এর বেশি আসন নিয়ে তৃতীয় বার বাংলা চালাবেন তিনি। নিখুঁত পরিকল্পনা করছেন মন্ত্রী সভার, ঘুঁটি সাজাচ্ছেন আগামী ৫ বছরের।
আরও পড়ুনঃ “ফিরে এলে স্বাগত” বিপুল জয়ের পরেও দলবদলুদের প্রতি মমতাময়ী মুখ্যমন্ত্রী।


তবে গত কালই মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন এই মুহূর্তে বিজয় উল্লাস নয়, প্রথম প্রায়োরিটি কোভিড মোকাবিলা। তার পর সব। কাল গণনা চলাকালীন দুপুর নাগাদ স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল, এবারের বাজি জিতে নিয়েছেন দিদি। বাংলার জনগন রায় দিয়েছেন নিজের মেয়েকেই আবার চান তারা।দুপুর থেকেই এসেছে শুভেচ্ছা বার্তা। দিল্লি থেকে ফোন এসেছে কেজরিওয়ালের, মহারাষ্ট্র থেকে উদ্ধব ঠাকরের, অখিলেশ, তেজস্বী সহ ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েক, পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিং সহ একাধিক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলার মেয়েকে।
কুর্নিশ জানিয়েছেন তাঁর এই লড়াইকে। বাংলার বিরোধী দল হিসেবে উঠে আসা বিজেপির বঙ্গ কমিটির তরফ থেকে জানানো হয়েছে শুভেচ্ছা। তবে একটা ফোন যে আসেনি, সেকথা আজ নিজেই জানিয়েছেন মমতা। তাঁকে শুভেচ্ছা জানাতে ফোন করেননি, দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এতদিন প্রায় সপ্তাহে সপ্তাহে বাংলায় এসেছেন তিনি, গেরুয়া শিবিরের হয় ব্যাক টু ব্যাক প্রচার করেছেন, প্রতি সভা থেকে হুঙ্কার দিয়েছেন দিদি কে হঠাতে হবে।
অথচ সেই বাংলায় হের গিয়ে দিদি কে একটা ফোন পর্যন্ত করেননি তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে। তাতে কিছুটা অবাকই হয়েছেন জিতে ফিরে আসা বাংলার মেয়ে। তাঁর মতে ভোটে জয়ী রাজ্যের ভাবী মুখ্যমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানানো তো প্রধানমন্ত্রীর তরফের নৈতিক সৌজন্য। তবে তাতে কিছু মনে করেননি তিনি, নিজেই জানিয়েছেন “হয়তো ব্যস্ত ছিলেন, আমি এতে কিছু মনে করিনি, জাতীয় স্বার্থে এবং রাজ্যের স্বার্থে আমাদের যেখানে একসাথে কাজ করতে হবে সেখানে সহযোগিতা পেলেই হলো।”


তবে রাজনৈতিক স্বার্থে ফোন না করলেও, জয়ী হওয়ার পর তৃণমূল সুপ্রিমোকে ট্যুইট করে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদী। শুভেচ্ছা জনিয়েছেন নির্মলা সিতারামন, রাজনাথ সিং সহ অনেকেই। কাল তৃতীয় বারের জন্য জিতে ফিরেছেন বাংলার মেয়ে।







