এক বছর পর মণিপুরে শেষ রাষ্ট্রপতি শাসন! সন্ধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন ইউমনাম খেমচাঁদ সিং

প্রায় এক বছর পর মণিপুরে শেষ রাষ্ট্রপতি শাসন। সন্ধ্যা ৬টায় শপথ ্নিলেন বিজেপি নেতা ইউমনাম খেমচাঁদ সিং। দীর্ঘ হিংসার পর শান্তি ফেরানোই নতুন সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

প্রায় এক বছর ধরে অস্থিরতার মধ্যে থাকা মণিপুরে অবশেষে প্রশাসনিক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। রাষ্ট্রপতি শাসনের অবসান ঘটিয়ে বুধবার সন্ধ্যাতেই নতুন মুখ্যমন্ত্রী পাচ্ছে উত্তর-পূর্বের এই রাজ্য। কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের জারি করা নোটিস অনুযায়ী, মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন ইউমনাম খেমচাঁদ সিং। বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় লোকভবনে তাঁকে শপথ বাক্য পাঠ করান রাজ্যপাল অজয় ভাল্লা। দীর্ঘ হিংসার পর এই ক্ষমতা হস্তান্তর কি রাজ্যে স্থায়ী শান্তির পথে প্রথম পদক্ষেপ—সেই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বড়।

শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হল ইম্ফলের লোকভবনে। সকাল থেকেই সেখানে প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল। মণিপুর বিজেপির এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে জানানো হয়েছে, “খেমচাঁদ সিংয়ের অভিজ্ঞ ও দূরদর্শী নেতৃত্বে মণিপুর শান্তি, উন্নয়ন ও সুশাসনের পথে এগোবে। রাজ্যে স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতির নতুন যুগের সূচনা হবে।”

সোমবার জরুরি তলবে দিল্লিতে আসেন মণিপুরের এনডিএ বিধায়করা। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকের পরই স্পষ্ট হয়ে যায়—রাজ্যে সরকার গঠনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত। মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিক ভাবে খেমচাঁদ সিংয়ের নাম সামনে আসে। তিনি মেইতেই সম্প্রদায়ভুক্ত হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।

২০২৩ সাল থেকে মেইতেই ও কুকি সম্প্রদায়ের সংঘর্ষে ভয়াবহ রক্তক্ষয়ের সাক্ষী হয়েছে মণিপুর। সরকারি হিসেবে মৃত্যু হয়েছে ৩০০-রও বেশি মানুষের, ঘরছাড়া হয়েছেন লক্ষাধিক। পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে চরম সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং। ২০২৪ সালের শেষে তিনি প্রকাশ্যে রাজ্যের মানুষের কাছে ক্ষমা চান। কিন্তু তাতেও রাজনৈতিক চাপ কমেনি। শেষ পর্যন্ত ৯ ফেব্রুয়ারি মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেন বীরেন।

এরপর প্রাথমিক ভাবে ছ’মাসের জন্য মণিপুরে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হয়। পরে সেই মেয়াদ বাড়ানো হয়। অবশেষে ৪ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি শাসনের আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটল।

বিজেপির অন্দরমহলে খবর, নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে সম্প্রদায়গত ভারসাম্যের কৌশল নিয়েছে দল। মুখ্যমন্ত্রী মেইতেই সম্প্রদায় থেকে এবং উপমুখ্যমন্ত্রী কুকি সম্প্রদায় থেকে করার পরিকল্পনা রয়েছে। যদিও এখনও উপমুখ্যমন্ত্রীর নাম ঘোষণা হয়নি।

সব মিলিয়ে, প্রশাসনিক শূন্যতার পর মণিপুরে সরকার গঠন নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ মোড়। তবে হিংসার ক্ষত এখনও গভীর। নতুন মুখ্যমন্ত্রীর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ—বিশ্বাস ফেরানো এবং রাজ্যে স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করা।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত