মাতৃভাষা দিবসেই ‘লাল’ ছেড়ে সবুজের পথে, অভিষেকের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দিচ্ছেন প্রতীক-উর!

সিপিএম ছেড়ে মাতৃভাষা দিবসেই তৃণমূলে যোগ দিতে পারেন প্রতীক-উর রহমান। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি ঘিরে জল্পনায় সরগরম রাজ্য রাজনীতি।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বাংলার রাজনীতিতে বড় পালাবদলের ইঙ্গিত। দীর্ঘদিনের বাম রাজনীতির পরিচিত তরুণ মুখ প্রতীক-উর রহমান এবার কি আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিতে চলেছেন? মাতৃভাষা দিবসের দিনই দলবদলের সম্ভাব্য ঘোষণা ঘিরে জোর চাঞ্চল্য রাজনৈতিক মহলে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার আমতলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাংসদ কার্যালয়ে তাঁর যোগদান কর্মসূচির খবর সামনে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের আলোচনা শুরু হয়েছে।

তৃণমূল সূত্রে জানা যাচ্ছে, শনিবার আমতলায় আয়োজিত কর্মসূচিতে প্রতীক-উর তৃণমূলের পতাকা হাতে নিতে পারেন। সেখানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিত থাকার সম্ভাবনাও প্রবল। যদিও শুক্রবার রাত পর্যন্ত অভিষেকের দফতর জানিয়েছে, তিনি সেখানে ‘দলের অভ্যন্তরীণ বৈঠক’-এর জন্য যাচ্ছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ভাষ্যই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।

Shamim Ahamed Ads

ঘটনাচক্রে, গত লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রেই সিপিএম প্রার্থী হিসেবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লড়েছিলেন প্রতীক-উর। মাত্র দু’বছরের ব্যবধানে সেই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের হাত থেকেই তৃণমূলের পতাকা নেওয়ার সম্ভাবনা রাজনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। সূত্রের দাবি, ইতিমধ্যেই অভিষেকের সঙ্গে ফোনে কথাবার্তাও হয়েছে প্রতীক-উরের, যদিও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি তিনি।

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা সিপিএম নেতৃত্ব প্রায় নিশ্চিত যে প্রতীক-উর দল ছাড়ছেন। তিনি একা যাচ্ছেন নাকি তাঁর সঙ্গে আরও নেতাকর্মী দলবদল করবেন—তা নিয়ে খোঁজখবর শুরু হয়েছে। প্রতীক-উর ঘনিষ্ঠদের দাবি, একাধিক এরিয়া কমিটির সম্পাদক, সদস্য এবং জেলা কমিটির কিছু নেতাও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।

প্রতীক-উর ইতিমধ্যেই রাজ্য কমিটি, জেলা কমিটি এবং দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা উল্লেখ করে চিঠি দিয়েছেন। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাঁকে বহিষ্কার করা সম্ভব হলেও সিপিএম নেতৃত্ব সেই পথে হাঁটেনি। বরং তাঁকে দলে রাখার চেষ্টা চালিয়েছিল আলিমুদ্দিন স্ট্রিট। প্রবীণ নেতা বিমান বসুও যোগাযোগ করেছিলেন বলে জানা যায়।

রাজ্য কমিটির বৈঠকের পর সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম আবেগঘন মন্তব্য করে বলেন, প্রতীক-উরকে হারানো তাঁর কাছে “সন্তান হারানোর মতো”। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক আক্রমণ বা মিডিয়ার সমালোচনায় সিপিএম দুর্বল হবে না।

অন্যদিকে প্রতীক-উর ধারাবাহিক সাক্ষাৎকারে সিপিএম নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, দলের ভিতরে প্রশ্ন করার পরিবেশ নষ্ট হয়েছে এবং নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনাও করেছেন। এই পাল্টা মন্তব্যে দুই পক্ষের দূরত্ব যে চরমে পৌঁছেছে, তা স্পষ্ট বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এখন নজর শনিবারের আমতলার কর্মসূচির দিকে—সেখানেই স্পষ্ট হবে প্রতীক-উরের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং রাজ্যের বিরোধী রাজনীতিতে নতুন ভাঙনের ছবি।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত