এ রাজ্যে কংগ্রেসের প্রদেশ সভাপতি পদে কে বসবেন? রাজনৈতিক মহলে চলছে চূড়ান্ত জল্পনা! অধীর রঞ্জন চৌধুরী নিজে জানিয়েছেন, তিনি এই মুহূর্তে অস্থায়ী। কারণ, কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মল্লিকার্জুন খাড়গে। আর তাঁদের দলের নিয়মানুযায়ী, খাড়গে যতক্ষণ না পর্যন্ত বিভিন্ন রাজ্যের কমিটি গড়ে দিচ্ছেন ততদিন বিদায়ী সভাপতিরা প্রত্যেকেই অস্থায়ী। যদিও সূত্রের খবর, বাংলায় প্রদেশ সভাপতি পদে বদল আসতে চলেছে।
আরও পড়ুন: রেল দুর্ঘটনা থেকে প্রশ্নফাঁস, NDA সরকারের বিরুদ্ধে সংসদে এককাট্টা INDIA
একুশের বিধানসভা নির্বাচন থেকেই হাত ধরাধরি করে আসছে কংগ্রেস ও বামফ্রন্ট। এবারের লোকসভাতেও অন্যথা হয়নি। ফলাফল প্রকাশের পর দেখে গিয়েছে, মালদহ দক্ষিণ আসন থেকে জিতেছেন ইশা খান চৌধুরী। মোট ১১টি বিধানসভা পেয়েছে হাত-শিবির। সেখানে বামেরা খাতাই খুলতে পারেনি। কংগ্রেসের একাংশ মনে করছে, এই জোটের কোনও ভিত্তি নেই, অন্তত কংগ্রেস ‘একলা চলো’ নীতিতে আস্থা রাখলে ফলাফল আরও ভালো হতে পারে।
সদ্যসমাপ্ত লোকসভায় হেরে গিয়েছেন কংগ্রেসের ৫ বারের সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরী। বহরমপুর কেন্দ্রে রাজনীতিতে নবাগত ভারতীয় দলের প্রাক্তন ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠানকে টিকিট দেয় তৃণমূল। আর তাঁর কাছেই পরাস্ত হয়েছেন অধীর। এমতাবস্থায় রাজনৈতিক মহলে জল্পনা হয়তো প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি পদ থেকেও বহরমপুরের রবিনহুডকে সরিয়ে দিতে পারে হাইকমান্ড। তাছাড়া হারের পর অধীর সাফ জানান, তিনি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সহযোগিতা সেভাবে পাননি। এমনকি প্রচারের টাকাও তিনি পেয়েছেন ভোটের পরে! এ রাজ্যে প্রচারেও আসেননি রাহুল গান্ধী বা শীর্ষ স্তরের কোনও হেভিওয়েট নেতা।

গত শুক্রবার লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল পর্যালোচনা করার জন্য একটি বৈঠক ডাকা হয় মৌলালি যুবকেন্দ্রে। প্রদেশ কংগ্রেসের পর্যালোচনা বৈঠকে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক গুলাম আহমেদ মীরের কাছে ক্ষোভ উগড়ে দেন কংগ্রেসের ব্লক এবং জেলা নেতাদের একাংশ। যদিও সিংহভাগই ছিলেন অধীরের পক্ষে। বিদ্রোহীদের দাবি, শুধু মাত্র নিজে জিততে চেয়ে আর উত্তরবঙ্গের কথা ভেবে বামেদের সঙ্গে জোট করেছেন অধীর। দক্ষিণের কথা ভাবেননি। বুথস্তরের সব কর্মীরা এখনও এই জোট মেনে নিতে পারেনি বলেই দাবি তাঁদের।
এই মুহূর্তে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি পদের দৌড়ে রয়েছেন একাধিক বাংলার নেতা। ইশা খান চৌধুরী রাজ্যের একমাত্র কংগ্রেস সাংসদ। তিনি এই দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে। দৌড়ে রয়েছেন নেপাল মাহাতো এবং প্রদীপ ভট্টাচার্যও। অধীরকেও একেবারে ব্রাত্য ভাবা হচ্ছে না। কংগ্রেসের রাজ্যের নেতারা তাঁর পক্ষেই রয়েছেন।
প্রদেশ সভাপতির চেয়ারে প্রদীপ ভট্টাচার্য, মমতাপন্থী মুখেই সিলমোহর!

কিন্তু, যে ‘ইন্ডিয়া’ জোট কেন্দ্রে গঠিত হয়েছে তা বাস্তবায়িত হয়নি এ রাজ্যে। কারণ, অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তিনি কোনও ভাবেই তৃণমূলের সঙ্গে জোট করতে রাজি নন। এ ক্ষেত্রেই কংগ্রেস হাইকমান্ডের আপত্তি রয়েছে। তাঁরা চান, মমতার আস্থা। অন্তত কেন্দ্রে তো বটেই। ফলে, হাইকমান্ডের সঙ্গে অধীরের দূরত্ব অনেকটাই বেড়েছে। এই মুহূর্তে যদি প্রদেশ সভাপতি পদে বদল আসে, তাহলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘চরম’ বিরোধী কোনও নেতাকে চাইছে না কেন্দ্রের হাত-শিবির।
সেক্ষেত্রেই আবার অনেকটা এগিয়ে রয়েছেন কংগ্রসের বর্ষীয়ান নেতা প্রদীপ ভট্টাচার্য। এবারের লোকসভাতেও তিনি কলকাতা উত্তর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হন। ১ লাখ ১৪ হাজারের বেশি ভোট পেয়েছেন তিনি। সবচেয়ে বড় কথা তিনি এর আগে ২০১১-২০১৪ সাল পর্যন্ত প্রদেশ সভাপতি ছিলেন। তাঁর পরেই অধীর দায়িত্বে আসেন।

আসলে, ২০২৬ বিধানসভার কথা মাথায় রেখে কংগ্রেস এ রাজ্যে এমন কাউকে চাইছে যেখানে কংগ্রেস বামফ্রন্টকে ছেড়ে পৃথকভাবে লড়বে এবং কেন্দ্রের কথা মাথায় রেখে তৃণমূল বা মমতাকেও একেবারে লাগামছাড়া ভাষায় কটাক্ষ করবেন না, প্রতিনয়ত। অসমর্থিত সূত্রে খবর, প্রদীপ ভট্টাচার্যের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ হয়েছে মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং রাহুল গান্ধীর।



