তিলোত্তমার আর জি করে ‘থ্রেট কালচারে’র শিকার তৃণমূলের ডাক্তার সংগঠন!!

মন্ত্রী শশী পাঁজা বলেন, "একদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বাস্থ্যক্ষেত্রে উন্নয়ন করবেন, অন্যদিকে কিছু লোক ক্যাম্পাসে জঙ্গি আন্দোলন করবে?"

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের চত্বরে সম্প্রতি নতুন স্বাস্থ্য সংগঠন ‘প্রোগ্রেসিভ হেলথ অ্যাসোসিয়েশন’ গঠনের পর থেকেই বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সদ্য গঠিত এই সংগঠনের সদস্য সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে, এই পরিবেশে থ্রেট কালচারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, মেডিক্যাল কলেজ ক্যাম্পাসে অ্যাসোসিয়েশনের সমস্ত পোস্টার ও ফ্লেক্স ছিঁড়ে দেওয়া হয়েছে।

বিষয়টি সামনে আসতেই সংগঠনের সভাপতি ও রাজ্যের মন্ত্রী ডা. শশী পাঁজা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে অভিযোগ জানিয়েছেন। ডিসি নর্থ এবং স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগমকে মেইল করে বিষয়টি জানানো হয়েছে। এদিন আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ চত্বরে প্রোগ্রেসিভ হেলথ অ্যাসোসিয়েশন তাদের পোস্টার লাগালেও কিছুক্ষণের মধ্যেই সেগুলো ছিঁড়ে ফেলা হয়। এর পেছনে কারা জড়িত তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে, তবে সংগঠনের সদস্যদের দাবি, এটি পূর্বপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।

সংগঠনের সম্পাদক ও রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. করবী বরাল সরেজমিনে তদন্ত করতে গিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, কিছু বহিরাগত ক্যাম্পাসে এসে ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তেজনা সৃষ্টি করছে। ইতিমধ্যে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের নামের তালিকা সংগঠনের হাতে এসেছে।

উল্লেখ্য, গত বছর আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের কিছু পড়ুয়া ক্যাম্পাসে থ্রেট কালচারের অভিযোগ তুলেছিলেন। সূত্রের খবর, এই ঘটনার পেছনেও একই গোষ্ঠী জড়িত থাকতে পারে। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি গণতান্ত্রিক পরিবেশ নষ্ট করতেই নতুন সংগঠনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে?

মন্ত্রী শশী পাঁজার বক্তব্য, “রবিবার কয়েকজন আন্দোলন করছিলেন বিচার চেয়ে। এরপরেই প্রোগ্রেসিভ হেলথ অ্যাসোসিয়েশনের পোস্টার ছেঁড়া হলো। তাহলে কি আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য গণতান্ত্রিক পরিবেশ নষ্ট করা? কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী সংগঠন থাকলে কি তাদের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হবে?”

এই ঘটনার পরেই আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মানস বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে। সূত্রের খবর, অধ্যক্ষ এদিন করবী বরালের সঙ্গে বৈঠকের পরেই জুনিয়র ডাক্তার ফ্রন্ট (জেডিএফ)-এর সঙ্গে পৃথকভাবে আলোচনা করেন। প্রশ্ন উঠছে, কেন আলাদা বৈঠকের প্রয়োজন পড়ল?

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করতে প্রোগ্রেসিভ হেলথ অ্যাসোসিয়েশন কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে ক্যাম্পাসের সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের দাবি জানিয়েছে। যদি ফুটেজ প্রকাশ করা হয়, তাহলে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। মন্ত্রী শশী পাঁজা জানিয়েছেন, আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ এবং টালা থানার ওসিকে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে। স্বাস্থ্যভবনের গ্রিভান্স রিড্রেসাল সেলের সৌরভ দত্তকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে।

মন্ত্রী শশী পাঁজা বলেন, “একদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বাস্থ্যক্ষেত্রে উন্নয়ন করবেন, অন্যদিকে কিছু লোক ক্যাম্পাসে জঙ্গি আন্দোলন করবে? রোগীর পরিবারকে হেনস্তা করবে? এটা চলতে পারে না। প্রোগ্রেসিভ হেলথ অ্যাসোসিয়েশন এর বিরুদ্ধে এই ষড়যন্ত্র মেনে নেওয়া হবে না।”

আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের ক্যাম্পাসে সংঘর্ষ নতুন কিছু নয়, তবে নতুন গঠিত সংগঠনের বিরুদ্ধে এত দ্রুত ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠতে দেখে বিশেষজ্ঞরা বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। পোস্টার ছেঁড়া, বহিরাগতদের উস্কানি এবং প্রশাসনিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ নিয়ে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রোগ্রেসিভ হেলথ অ্যাসোসিয়েশন ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি তুলেছে, যা ভবিষ্যতে এই সংঘর্ষের মোড় কোনদিকে ঘুরবে, তা দেখার বিষয়।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত