নজরবন্দি ব্যুরোঃ মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি মমতার পুরনো অভ্যেস, এমনকি গতকালের গতকালের ভাইরাল হওয়া অডিওর প্রেক্ষিতে এমনটাই দাবী করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়। ৫ম দফা ভোটের আগের দিন অর্থাৎ কাল ভাইরাল হয়েছে একটি অডিও ক্লিপ। সেখানে শোনা গেছে, মুখ্যমন্ত্রী এবং শীতলকুচির তৃণমূল প্রার্থীর কথোপকথন। আর তার প্রেক্ষিতেই আজ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিশেষ তদন্ত কারী দল, তথা সিট গঠনের দাবীতে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে গেরুয়া শিবির।
আরও পড়ুনঃ তৃণমূলই ভাইরাল করেছে অডিও, শীতলকুচি কাণ্ডের রেকর্ডিং নিয়ে কমিশনে BJP


চতুর্থ দফার ভোটের দিন প্রথম ভাগেই কোচবিহারের শীতলকুচিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারান ৫ জন সাধারণ মানুষ। পরিওস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে ৭২ ঘন্টা পর্যন্ত কোন রাজনৈতিক নেতা মন্ত্রীদের ঘটনাস্থলে যেতে দেয়নি কমিশন, সেই মতো ৭২ ঘন্টা পেরিয়ে চতুর্থ দিনে নিহত এবং আহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন রায়ের মুখ্যমন্ত্রী। আশ্বাস দেন ভোট মিটলেই আবার আসবেন, প্রতিশ্রুতি দেন ওই পরিবার গুলির পাশে থাকবে রাজ্য সরকার।
ঘটনার শুরু থেকেই তৃণমূল দাবী করছিল বিজেপির নির্দেশেই ঘটেছে এই ঘটনা, অপরদিকে মোদী বাংলায় এসে দাবী করছিলেন মমতার মাস্টারপ্ল্যান এই হত্যালীলা। চলছে তদন্ত। এসবের মাঝেই ৫ম দফাত ভোটের ঠিক আগের দিন, অর্থাৎ কাল বিজেপির তরফ থেকে ভাইরাল করা হয় একটি অডিও ক্লিপ।
সেখানে শোনা গেছে দুজনের কথা। বিজেপির বক্তব্য ছিল তা হলো আসলে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সঙ্গে শীতলকুচির তৃণমূল কংগ্রেস নেতা পার্থপ্রতিমের। বিজেপির অভিযোগ, সেখানে তৃণমূল নেত্রী দেহগুলি নিয়ে তিনি ব়্যালি করার কথা বলেছেন। আজ শনিবার, বিজেপির তরফ থেকে লিখিতভাবে দাবি জানানো হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের জন্য। গেরুয়া শিবিরের বক্তব্য, অপি পরিস্থিতিতে মৃতদেহ নিয়ে মিছিল হলে এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে যেত। অপর দিকে মুখ্যমন্ত্রীর অন্যও এক কথা নিয়েও অভিযোগ জানিয়েছেন তাঁরা।


অডিওতে শোনা গেছে,মমতা বলছেন মৃতদের পরিবার নয় বরং পেশাদার আইনজীবীদের দিয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করাতে শীতলকুচির তৃণমূল নেতাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন মমতা। অডিওতে শোনা গেছে, পার্থপ্রতীম রায়কে মমতা বলছেন, ‘পার্থ মাথা ঠাণ্ডা করে ভোটটা করো, তার পর এর বিচার আমরা করব। ডেডবডিগুলো এখন রেখে দাও। কাল ডেডবডিগুলো নিয়ে ব়্যালি হবে। পরিবারগুলোকে বলবে কেউ ডেডবডি নেবে না’। সেই নিয়েও অভিযোগ, মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি করতে চেয়েছিলেন তিনি। তবে গতকাল সাংবাদিক বৈঠকে অমিত মালব্য এই ভিডিওটি সামনে আনার পর তৃণমূল স্বীকার করে নিয়েছিল কত্থোপকথন।
উল্টে ঘাসফুল শিবিরের অভিযোগ ছিল, ‘কেন্দ্র কি বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর ফোনের ব্যক্তিগত কথোপকথন ট্যাপ করেছে?একজন মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত পরিসরে অনুপ্রবেশ করার ও ক্ষুদ্র রাজনৈতিক স্বার্থের জন্য ক্ষমতার চূড়ান্ত অপব্যবহার করার বিরুদ্ধে আমরা তীব্র নিন্দা জানাই’। ডেরেক ও ব্রায়েন, সুখেন্দু শেখর রায়রা জানিয়েছিলেন পার্থপ্রতিম রায়কে ফোন করে কোনও অন্যায় করেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেইসঙ্গে ফোন ট্যাপ করা নিয়ে গলসীর সভা থেকে মমতাও বলেছেন, সিআইডি তদন্ত করাবেন তিনি এই বিষয়ে।
মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি মমতার পুরনো অভ্যেস, বিজেপি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায় আগেই বলেছিলেন একথা। প্রসঙ্গে তিনি উধাহরণ টানেন, তাপসি মালিক থেকে রিজুয়ানের মৃত্যুর ঘটনার। ৫ম দফার ভোটের দিনই রাজ্যে এসেছেন নরেন্দ্র মোদী। অ্আর এসে তিনিও কার্যত একই কথা বললেন সভা মঞ্চ থেকে। আজের প্রথম সভা করেছেন তিনি আসানসোলে। আর সেখানের সভা থেকেই গতকালের ভাইরাল হওয়া টেপের কথা তুলে এনে তিনি জানান, কোচবিহারে ৫ জনের দুঃখজনক মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি করেছেন দিদি। তার পরই লকেটের সুরেই তিনি বলেন, মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি দিদির পুরনো অভ্যাস।







