আরজি কর-কাণ্ডের তদন্ত ভার গিয়ে পড়েছে সিবিআই এর হাতে। এর মধ্যে সন্দীপ ঘোষ কে একাধিকবার সিজিও কমপ্লেক্সে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তবে এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে না পারায় রীতিমত সিবিআইয়ের ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সেই সঙ্গে ক্রমেই বেড়ে চলেছে দিকে দিকে আন্দোলনের ঝাঁঝ। যদিও বিরোধী রাজনৈতিক দলের একাংশের দাবি বেশ কিছু প্রমাণ লোপাট করা হয়েছে সে কারণেই সিবি আইয়ের পক্ষেও তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে বেগ পেতে হচ্ছে। সেই সঙ্গে আবারও প্রশ্ন উঠছে কেন ওই ঘটনার পরের দিনই ওই তরুণী চিকিৎসকের দেহ পুড়িয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি আর একটি প্রশ্ন ঘোরাফেরা করছে কীভাবে সেদিন ময়নাতদন্তের পরই আরজি কর হাসপাতালের আন্দোলনকারীদের ভিড় ঠেলে তিলোত্তমার দেহ বাড়ি পৌঁছে দিয়েছিল পুলিশ। এবার এই প্রসঙ্গে মুখ খুললেন শ্মশানের ম্যানেজার।
এদিন পানিহাটির শ্মশানের ম্যানেজার ভোলানাথ পাত্রের কথায়, সেদিন শ্মশানে ওই নির্যাতিতার দেহ আসার আগেই লাইনে আরও দু জনের দেহ দাহ করার জন্য এসেছিল। কিন্তু পুলিশ সেদিন ওই নির্যাতিতার দেহ দাহ করার জন্য খুব তাড়া দেখিয়েছিল। ওই তরুণী চিকিৎসকের দেহ আগেই দাহ করার নির্দেশ দিয়েছিল পুলিশ। তাই সেই মোতাবেক কাজ করেছিলেন পানিহাটি শ্মশানের ডোমও। তিলোত্তমার দেহ যে তড়িঘড়ি দাহ করা হয়েছিল, স্বীকার করলেন পানিহাটির শ্মাশান ঘাটের কর্মীরাও।


তাঁদের দাবি, আগে থেকে পুলিশ গিয়ে বলেছিল, একটি দেহ আসবে, সেটা আগে দাহ করতে হবে। তখনও শ্মশানের কর্মীরা বুঝেই উঠতে পারেননি আসল বিষয়টা। তবে ম্যানেজারের কথায়, যেহেতু ওই নির্যাতিতার পরিবার স্থানীয় লোক ছিল তাই যত তাড়াতাড়ি ওই দেহ পুড়িয়ে দেওয়া যায় সেই চেষ্টাই করেছিল পুলিশ। পুলিশের তরফ থেকে বারে বারে বলা হচ্ছিল একটা দেহ আসছে, তাড়াতাড়ি দাহের জন্য ব্যবস্থা করতে হবে।
এখন প্রশ্ন, কেন পুলিশের তরফে দেহ দাহ করা নিয়ে ওই দিন এত তৎপরতা দেখানো হয়েছিল। যদিও এ প্রসঙ্গে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, “অনেক প্রমাণ লোপাট করা হয়েছে সেই কারণেই সিবিআইয়ের পক্ষে প্রকৃত দোষীদের ধরতে একটু দেরি হচ্ছে।” এরপর তিনি বলেন, “ওই দিন শ্মশানে যিনি কাঠ নিয়ে বসে ছিল তাঁকে আগে গ্রেফতার করা হোক।”







