নজরবন্দি ব্যুরোঃ পশ্চিমবঙ্গের অর্থ দফতরের যুগ্ম সচিব পদে রয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে রয়েছেন রাজ্যের সংখ্যালঘু বিভাগের বিশেষ পদেও। অথচ তাঁর বিরুদ্ধে একরাশ বিস্ফোরক অভিযোগ। ১২ বছর বয়স থেকে নানা অছিলায় ধর্ষণের অভিযোগ এক মহিলাকে। ১২ বছর বয়স থেকে ধর্ষণের শিকার হওয়ার দরুন দীর্ঘ সময় ধরে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। এর মধ্যেই সাহস জুগিয়ে মুখ খুলেছেন ওই মহিলা। একাধিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে গ্রেফতার করেছে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ। আদালতের নির্দেশে জেল হেফাজতে রাখা হয়েছে তাঁকে।
আরও পড়ুনঃ রাজভবন নবান্ন একসূত্রে কাজ করবে, রাজ্যপালের পাশে বসে জানালেন ব্রাত্য


জানা গিয়েছে, অভিযুক্তের নাম প্রদ্যোৎ কুমার দাস। বাঘাযতীন এলাকার বাসিন্দা ওই ব্যক্তি। দীর্ঘ সময় ধরে একাধিক সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ওই মহিলাকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। মহিলার অভিযোগ, ১২ বছর বয়স থেকে তাঁকে একাধিকবার ধর্ষণ করে ওই ব্যক্তি। প্রথম থেকেই বিষয়টি নিয়ে আতঙ্কে ভুগছিলেন নির্যাতিতা। অভিযোগ, প্রায় ১৫ বার একই সুযোগ নিয়ে তাঁকে ধর্ষণ করা হয়েছে। এমনকি কারোর সামনে মুখ খোলার বিরুদ্ধে বারবার শাসিয়েছে ওই ব্যক্তি।

এরপরেও অনেক সাহস জুগিয়ে একজনকে ঘটনা সম্পর্কে অবগত করার পর সেই ব্যক্তি ফের ধর্ষণের চেষ্টা করে। এভাবেই চলতে থাকে ওই ব্যক্তির কার্যকলাপ। বারবার ধর্ষণ মুখে বুজে সহ্য করে ওই মহিলা। এরপর ১৬ বছর বয়সে একাধিক অছিলায় শুরু হয় ধর্ষণ। এরই মধ্যে মহিলা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। দক্ষিণ কলকাতার এক হাসপাতালে অপারেশন করে গর্ভপাত করাতে বাধ্য করে ওই ব্যক্তি।
দীর্ঘ সময় ধরে মানসিক লড়াই চালিয়ে যান ওই মহিলা। গত বছরের ২১ ডিসেম্বর মানসিক ক্ষমতা জুটিয়ে ন্যায়ের আশয় একটি পদক্ষেপ নেন। একটি ফেসবুক লাইভ করে জানান, যে ব্যক্তি তাঁর ওপর পাশবিক অত্যাচার চালিয়েছেন, তাঁর সম্পর্কে সমস্ত কিছু ফাঁস করবেন তিনি। যদিও সেদিনের ফেসবুক লাইভে কোনও ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেননি। কিন্তু অভিযুক্ত প্রদ্যোত তাঁকে ফোন করে ভয় দেখাতে শুরু করে। এমনকি নিজেও সুইসাইড করবে বলে জানায়। নির্যাতিতার কথায়, আমি এখনও মানসিক সমস্যার মধ্যে রয়েছি।


১২ বছর বয়স থেকে ধর্ষণের শিকার, কড়া পদক্ষেপ নিল প্রশাসন

নির্যাতিতার অভিযোগ পাওয়া মাত্রই নড়ে বসে প্রশাসন। দ্রুত ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। গত ১৪ জানুয়ারি তাঁকে গ্রেফতার করে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ। অভিযুক্তকে বারুইপুর মহকুমা আদালতের নির্দেশে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আরও বিস্ফোরক তথ্য মিলেছে। জানা গেছে, এক কোচিং সেন্টারের অল্পবয়সী মেয়েদের সঙ্গে সহবাস করেছেন ওই ব্যক্তি। সূত্রের খবর, নানা অছিলায় দিনের পর ওই ব্যক্তি একাধিক মেয়েদের নিয়ে উত্তরবঙ্গে যেতেন। সেখানে চালাতেন এই কর্মকাণ্ড। গোটা বিষয়টির তদন্ত করছে পুলিশ।







