নজরবন্দি ব্যুরোঃ ইডি হেফাজতে থাকাকালীন প্রতি ৪৮ ঘণ্টা অন্তর পার্থ-অর্পিতার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। সেই মত সিজিও-য় টানা জেরার পর আজ ফের জোকা ইএসআই হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আনা হয় পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও অর্পিতা মুখোপাধ্যায়কে। আর আজ হাসপাতালে ঢোকার মুখে হুলুস্থুল কাণ্ডের সাক্ষী থাকল সংবাদমাধ্যম, কেন্দ্রীয় বাহিনী, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং ইডি আধিকারিকরা।
আরও পড়ুনঃ একুশের ভোটের আগে কত সম্পত্তি ছিল? ভোটের হলফনামায় কি জমা দিয়েছিলেন পার্থ?



এদিন হাসপাতালে ঢোকার মুকে গাড়িতে বসেই হাউহাউ করে কাঁদতে থাকেন অর্পিতা। কিছুক্ষন পর একটু ধাতস্থ হলে, গাড়ি থেকে নামতে যান তিনি। সেই সময় মাটিতে পড়ে যান আচমকাই। পরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর মহিলা জওয়ানরা কোনওক্রমে তাঁকে টেনে তোলেন। সেই সময়েও হাউহাউ করে কাঁদতে থাকেন তিনি। এর পরে ইডির জওয়ান ও হাসপাতাল কর্মীরা তাঁকে টেনে নিয়ে যায় ভিতরে। হাউহাউ করে কাঁদতে কাঁদতেই হাসপাতালে ঢোকেন তিনি। অন্যদিকে পার্থ অভিযোগ করেন, তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার!

মন্ত্রিত্ব তো গিয়েইছে। দল থেকেও সাসপেন্ড করা হয়েছে তাঁকে। কেড়ে নেওয়া হয়েছে যাবতীয় দলীয় পদ। পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলে দিলেন, তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার! পার্থ কারও নাম করেননি। ফলে তিনি ‘ষড়যন্ত্র’ বলতে কী বোঝাতে চেয়েছেন, তার স্পষ্ট নয়। তবে আন্দাজ করা হচ্ছে পার্থ বলতে চেয়েছেন, তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে। আসলে এই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আরও অনেকে। বিষয়টা খতিয়ে দেখছে ইডিও।


‘ষড়যন্ত্র হলে পাঁচ দিন পরে বলছেন কেন? আদালতে প্রমাণ করুন!’ পার্থকে খোঁচা কুণালের।

গতকালই পার্থ খুইয়েছেন মন্ত্রীত্ব, হারিয়েছেন দলের সবকটি পদ। আশা করা হচ্ছিল সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে কিছু বলবেন তিনি। কিন্তু তেমনটা হয়নি। এমনকি কুণাল ঘোষ যে কথা জোর দিয়ে বলেছিলেন, ‘কথা বলার সুযোগ পেয়েও কেন পার্থ বলছেন না আমি নির্দোষ।’ সেইভাবে নিজেকে নির্দোষ এই দাবিও করেননি পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তবে একবারই শুধু তাঁর মুখ থেকে বেরিয়েছে, “আমি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছি।”
এদিকে পার্থর বক্তব্যের জবাব দিয়েছেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। কুণাল ঘোষ বলেন, ‘‘ষড়যন্ত্র হলে পাঁচ দিন পরে বলছেন কেন! ষড়যন্ত্র হলে তিনি আদালতে গিয়ে তা প্রমাণ করুন না হয়!’’







