পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ফের নতুন বিতর্ক। রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়, যিনি প্রায় আড়াই বছর ধরে জেলে আছেন, তার বিরুদ্ধে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিস্ফোরক অভিযোগ নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। শুভেন্দুর দাবি, পার্থ জেলে বসেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ রাখছেন।
সোমবার শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভায় বলেন, “পার্থ চট্টোপাধ্যায় যখন যা চান, তা-ই খান। বেলের মোরব্বা থেকে খাসির মাংস, জেলের মধ্যে সবই মেলে। এমনকি অষ্টমীর দিন লুচি-ছোলার ডালও খেয়েছেন। জেল থেকে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে নিয়মিত কথা বলেন।”
তিনি আরও বলেন, “এই মামলা পশ্চিমবঙ্গের বাইরে নিয়ে যাওয়া উচিত। কারণ, রাজ্যের জেলগুলোতে জঙ্গিরা এবং অপরাধীরা জেলের ভেতর থেকেই পরিকল্পনা চালায়।”
তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। কুণাল বলেন, “শুভেন্দু অধিকারী প্রমাণ দিক। শুধুমাত্র অভিযোগ করে তাকে ‘বিস্ফোরক’ বললেই তা সত্যি হয়ে যাবে না। এটা আসলে বিবৃতির লড়াই।”
জেলে মোবাইল ফোন ব্যবহার এবং বাইরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অভিযোগ ঘিরে নড়েচড়ে বসেছে রাজ্যের কারা দফতর। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে জ্যামার বসানো হচ্ছে। তবু, শুভেন্দুর বক্তব্য এই উদ্যোগ যথেষ্ট নয়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহল উত্তপ্ত। শুভেন্দুর মন্তব্যের ফলে তৃণমূল-বিজেপি দ্বন্দ্ব আরও তীব্র হয়েছে। একদিকে শুভেন্দু দাবি করছেন, জেলের মধ্যেও অপরাধীরা আরামপ্রিয় জীবনযাপন করছে, অন্যদিকে তৃণমূল অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।



