তিন বছর দীর্ঘ কারাবাসের পর, SSC নিয়োগ মামলায় জেল থেকে ছাড়া পাচ্ছেন রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে মুক্তি পেতে চলেছেন এসএসসি-র প্রাক্তন চেয়ারম্যান সুবীরেশ ভট্টাচার্য। দীর্ঘদিন ধরে বহুল আলোচিত এই মামলায় অবশেষে এক নতুন অধ্যায় সূচিত হলো শুক্রবার।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে মিলল মুক্তি
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, সিবিআই-এর দাখিল করা আট জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার পর পার্থ ও সুবীরেশের মুক্তির পথ খুলে যায়। বৃহস্পতিবার অষ্টম সাক্ষী, যিনি এসএসসি-র এক সিনিয়র অফিসার, তাঁর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। এর পরই বিশেষ সিবিআই আদালত জামিনের নির্দেশ দেয়।
জামিনের অর্থ ইতিমধ্যেই জমা পড়েছে
জানা গিয়েছে, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের জামিনের শর্ত হিসেবে ৯০ হাজার টাকা ইতিমধ্যেই জমা পড়েছে। আদালতের রিলিজ অর্ডার প্রেসিডেন্সি জেলে পৌঁছনোর পরই প্রাক্তন মন্ত্রীর মুক্তি প্রক্রিয়া শুরু হবে। বর্তমানে তিনি বাইপাসের ধারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। চিকিৎসকদের অনুমতি সাপেক্ষেই তাঁকে জেল থেকে মুক্তি দেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে।
দীর্ঘ তিন বছরের আইনি লড়াইয়ের পর অবসান
২০২২ সালের জুলাই মাসে পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেপ্তার করে ইডি। স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে ওঠে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ। পাশাপাশি, সুবীরেশ ভট্টাচার্যও সেই মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত ছিলেন। প্রায় তিন বছর ধরে তাঁরা বিচারাধীন অবস্থায় কারাবন্দি ছিলেন।
আইনি মহলের প্রতিক্রিয়া
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর জামিন পাওয়া ছিল সময়ের অপেক্ষা মাত্র। কারণ, আদালত আগেই জানিয়ে দিয়েছিল যে, প্রাথমিক প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তদের দীর্ঘদিন আটক রাখা উচিত নয়। এখন আদালতের পরবর্তী নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছেন সিবিআই ও প্রতিরক্ষা আইনজীবীরা।
রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য
পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মুক্তির খবরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস যদিও বিষয়টিকে ‘আইনি প্রক্রিয়া’ বলে ব্যাখ্যা করেছে, বিরোধীরা তা নিয়ে নতুন করে সরব। একাধিক দল দাবি করছে, “এখনও বিচার শেষ হয়নি, তাই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হতে আরও সময় লাগবে।”
তিন বছর পর মুক্তির পথে পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও সুবীরেশ ভট্টাচার্য। তবে এই মামলা এখানেই শেষ নয়। SSC নিয়োগ দুর্নীতি মামলা এখনও তদন্তাধীন, এবং ভবিষ্যতে আদালতের রায়ে কী মোড় নেয়, তা এখন সবার নজরেই। আপাতত প্রাক্তন মন্ত্রীর ঘরে ফেরার অপেক্ষায় রাজ্য রাজনীতি।







