ক্রিমিয়ার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন অন্তত ২৯ জন। রাশিয়ার সেনাবাহিনীর মালবাহী Antonov An-26 বিমানটি পাহাড়ে ধাক্কা খেয়ে ভেঙে পড়েছে বলে জানা গিয়েছে। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন পাইলট-সহ ৬ জন ক্রু সদস্য, বাকিরা যাত্রী। ঘটনাকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমেছে রুশ সেনাবাহিনীতে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা TASS সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ছ’টা নাগাদ (মস্কোর সময়) বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তার কিছু পরেই দুর্ঘটনার খবর সামনে আসে।
প্রাথমিক অনুমান, যান্ত্রিক ত্রুটির জেরেই এই বিপর্যয় ঘটেছে। যদিও এখনও পর্যন্ত রাশিয়ার সেনাবাহিনীর তরফে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। দুর্ঘটনাস্থল চিহ্নিত হলেও উদ্ধারকাজ এবং তদন্ত প্রক্রিয়া চলেছে।
একাধিক সূত্রের দাবি, এই দুর্ঘটনার পিছনে কোনও মিসাইল বা ড্রোন হামলার যোগ নেই। এমনকি পাখির সঙ্গে সংঘর্ষের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ঠিক কী কারণে বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারায়, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে সামরিক কমিশন।
Antonov An-26 বিমানটি মূলত স্বল্প ও মাঝারি দূরত্বে সেনা ও মাল পরিবহণের জন্য ব্যবহৃত হয়। প্রায় ৪০ জন যাত্রী বহনে সক্ষম এই বিমানটি ১৯৬০-এর দশক থেকে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, অতীতেও একাধিক বার এই মডেলের বিমান দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। Ukraine, দক্ষিণ সুদান ও আইভরি কোস্টে পূর্ববর্তী দুর্ঘটনায় বহু প্রাণহানি ঘটেছে। ২০২০ সালে ইউক্রেনে প্রশিক্ষণ চলাকালীন An-26 ভেঙে পড়ে ২৭ জনের মৃত্যু হয়। ২০২২ সালেও জাপোরিজ়হিয়া অঞ্চলে একই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে।
সব মিলিয়ে, ক্রিমিয়ার এই দুর্ঘটনা আবারও রুশ সামরিক বিমানের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলল। তদন্তের রিপোর্টই জানাবে, এটি নিছক যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি আরও গভীর কোনও সমস্যার ফল।



