নজরবন্দি ব্যুরোঃ আজ সকালে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের শারীরিক পরীক্ষা করা হয়েছিল জোকা ইএসআই হাসপাতালে। দেখা গিয়েছে তাঁর ওজন এখন ১০৮ কেজি। অর্থাৎ ১২ দিনে ৩ কেজি ওজন কমেছে পার্থ বাবুর। কিছুদিন আগেই ভুবনেশ্বর এইমসে তাঁকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্যে পাঠিয়েছিল আদালত, সেখানে পার্থ বাবুর হাইট ছিল ৫ ফুট সাড়ে ৪ ইঞ্চি। তবে উচ্চতার তুলনায় তাঁর ওজন ছিল অনেকটাই বেশি, ১১১ কেজি।
আরও পড়ুনঃ নির্বাচনের ঢাকে কাঠি, ১২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার নির্দেশ কমিশনের।


পার্থবাবু জানিয়েছেন, তাঁর শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে কষ্ট হয় বহুদিন ধরেই। তবে কত দিন এই সমস্যার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন তা ঠিক মনে নেই। পার্থ বাবুর দাবি, শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যার জন্য মাঝে মধ্যে রাতে অক্সিজেন সাপোর্ট, নেবুলাইজার বা বাইপ্যাপের সাপোর্ট নিতে হয়। মাঝে মধ্যে পা ফুলে যায় তাঁর। মাঝে মধ্যেই মাথা ঘোরে। কিন্তু এখন তিনি অনেকটাই ভাল আছেন বলছে হাসপাতাল সূত্র।

কিন্তু কেন এতটা ওজন কমল পার্থ বাবুর? আসলে তিনি বেশ ভোজনরশিক। মাছ মাংশ, বিশেষ করে খাসির মাংশ খেতে খুবই পছন্দ করেন তিনি। ইডির কাছে জেরা চলাকালীন ভাল মন্দ খাওয়ার বায়নাও করেছেন। কিন্তু ইডি কি আর তাঁর শান্তি নিকেতনের রিসর্ট। যে যেমঞ্চাইবেন তেমন খাওয়ার মিলবে? ভাত তো দূরের কথা চিকিৎসকদের পরামর্শ মতো তাঁকে প্রতিদিন রুটি সবজি খাওয়াচ্ছেন ইডি আধিকারিকরা। তবে সাথে থাকছে ফল এবং বড়জোর মুরগীর মাংশর পাতলা ঝোল।
পার্থ এখন ১০৮, ১২ দিনে ৩ কেজি ওজন কমে গেল প্রাক্তন মহাসচিবের।



এদিকে, তাঁর রেচন ব্যবস্থায় সমস্যা রয়েছে। ইউরিন পাশ করার সময় কষ্ট হয় মাঝেমধ্যেই। সে জন্য নেফ্রলজিস্টের পরামর্শ নিয়ে চলছেন। তিনি টাইপ ২ সুগারে আক্রান্ত গত ১৫ বছর। এ ছাড়া ক্রনিক কিডনির ডিজিজ রয়েছে তাঁর। অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া নামক রোগেও আক্রান্ত তিনি। ডায়াবেটিশ থেকে এসেছে কিডনির সমস্যাও। ইউরিয়া, ক্রিয়েটিনিন কিছুটা বেড়ে রয়েছে স্বাভাবিকের থেকে।

কিন্তু তাতে কি? ভোজনরশিক পার্থ খাওয়ার ব্যাপারে কখনই প্রাধান্য দেননি শারীরিক সমস্যাকে। পার্থ বাবুর ঘনিষ্ঠ মহল থেকে জানা গিয়েছে, কেজি খানেক খাসির মাংশ আর ডজন খানেক রসগোল্লা তাঁর মুখে হারিয়ে যেত অবলীলায়। এহেন পার্থ বাবুর শরীর কি আর রুটি সবজিতে বাগ মানে? ওজন তো কমবেই…







