‘শীঘ্রই কাজে ফিরব’, জেলমুক্তির পর বেহালা পশ্চিমে ফেরার ইঙ্গিত পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের

প্রায় সাড়ে তিন বছর পর মুক্তি পেয়ে আবেগে ভাসলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। অনুগামীদের জানালেন, খুব শীঘ্রই আবার রাজনৈতিক জীবনে ফিরবেন তিনি।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

প্রায় সাড়ে তিন বছর পর অবশেষে জেলমুক্ত হলেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় দীর্ঘ কারাবাসের পর মঙ্গলবার তিনি হাসপাতাল থেকে মুক্তি পান। পার্থ চট্টোপাধ্যায় জেলমুক্তির খবর ছড়িয়ে পড়তেই অনুগামীদের ভিড় জমে যায় হাসপাতালে ও তাঁর বাসভবনের সামনে।
“শীঘ্রই কাজে ফিরব”— জেল থেকে মুক্তি পেয়ে বাড়ি ফিরেই এই বার্তা দেন পার্থ।

হুইলচেয়ারে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে আসতেই অনুগামীদের চোখে জল, মুখে স্লোগান— “পার্থদা জিন্দাবাদ, বেহালা পশ্চিমে পার্থদাকে চাই”। দীর্ঘ তিন বছর পর নিজের প্রিয় নেতাকে দেখে আবেগে ভেসে যান তাঁরা। গাড়ির জানালা দিয়ে হাত নেড়ে সাড়া দেন পার্থও। হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেই প্রথমেই ঠাকুরঘরে প্রণাম করেন তিনি। এরপর দেখা করেন পরিবারের সদস্য ও অনুগামীদের সঙ্গে।

পার্থ চট্টোপাধ্যায় জেলমুক্তি-র পর তিনি জানান, “আমি বেহালা পশ্চিমের মানুষের কাছে দায়বদ্ধ। পরপর পাঁচ বার ওরা আমাকে আশীর্বাদ করেছে। এখন তাদের কাছেই বিচার চাইব।” এই বক্তব্যে স্পষ্ট, তিনি রাজনীতি থেকে দূরে থাকছেন না। বরং ফের সক্রিয় রাজনীতিতে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

সূত্রের খবর, পার্থ খুব শীঘ্রই নিজের বিধানসভা কেন্দ্র বেহালা পশ্চিমে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। যদিও নির্দিষ্ট তারিখ এখনও ঠিক হয়নি। তবে অনুগামীদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, “আরও কয়েকদিনের মধ্যেই দেখা হবে।”

পার্থ চট্টোপাধ্যায় জেলমুক্তি-র এই অধ্যায় যেন এক নতুন সূচনা। দীর্ঘ কারাবাস, তদন্ত ও রাজনৈতিক পতনের পরও তাঁর জনপ্রিয়তা যেন অটুট। অনুগামীদের দাবি, “আমরা চাই দাদা ফের মাঠে নামুক, আগের মতো সক্রিয় হোক।” তাঁদের চোখে, পার্থ এখনও তাঁদের “দাদা”, তাঁদের নেতা।

তবে এই আবেগঘন প্রত্যাবর্তনের মধ্যেও রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন— তৃণমূল কি ফের পার্থকে দলে নেবে? নাকি বহিষ্কৃত অবস্থাতেই তিনি নিজের নতুন রাজনৈতিক অধ্যায় শুরু করবেন?
তৃণমূল সূত্রে অবশ্য জানানো হয়েছে, “দলের অবস্থান আগের মতোই।” কিন্তু পার্থের অনুগামীদের দাবি, “ওঁর নামেই বেহালায় ভোট হয়। মানুষ ওঁকে ভালোবাসে, তাই তিনিই ফিরবেন।”

পার্থ চট্টোপাধ্যায় জেলমুক্তি নিয়ে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মত, এটি শুধু একজন নেতার মুক্তি নয়, বরং তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ শক্তির পুনর্মূল্যায়নের সূচনা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে একসময়ে ঘনিষ্ঠ পার্থ, যিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দফতরের দায়িত্বে ছিলেন, এখন নতুন করে জনসমর্থন যাচাইয়ের পথে হাঁটছেন।

জেলমুক্তির পর পার্থের প্রথম দিন কেটেছে পরিবারের সান্নিধ্যে, পোষ্যের সঙ্গে সময় কাটিয়ে এবং অনুগামীদের ভালোবাসা পেয়ে।
দীর্ঘ কারাবাসের পরও তাঁর চোখে ক্লান্তি নয়, বরং প্রত্যাবর্তনের দৃঢ় সংকল্প।

পার্থ চট্টোপাধ্যায় জেলমুক্তি নিয়ে আপাতত জল্পনা অব্যাহত— রাজনীতিতে তিনি কীভাবে, কবে এবং কোন ভূমিকায় ফিরবেন, সেটাই এখন সময়ের অপেক্ষা।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর