২০২২ সালে রাজ্যের প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বিচার পর্ব শুরু হয়েছে। প্রায় সাড়ে তিন বছর পর কলকাতার বিশেষ ইডি আদালতে এই বিচার পর্ব শুরু হয়েছে। বিচার প্রক্রিয়ার নতুন পর্যায়ে সাক্ষ্যগ্রহণও শুরু হয়েছে, কিন্তু তারই মধ্যে চরম অসুস্থ হয়ে পড়েছেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তাঁর ফুসফুস সঠিক ভাবে কাজ করছেনা, বিকল হওয়ার মুখে কিডনি। অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে ক্রিয়েটিনিন।
পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের জন্যে খারাপ খবর, চরম সঙ্কটে জামিন ও স্বাস্থ্য!

হাসপাতাল সূত্রে খবর, ফুসফুসের অবস্থা ভাল নয় পার্থ বাবুর। সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ক্রিয়েটিনিন। মাত্রা ওঠানামা করছে সোডিয়াম পটাশিয়ামের। পার্থ চট্টোপাধায়ের সিটি স্ক্যান করা হয়েছে। এই মুহুর্তে সম্পূর্ণ অক্সিজেন সাপোর্টে রয়েছেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী।
এসএসকেএম হাসপাতালে সঠিক চিকিৎসা হচ্ছেনা এই অভিযোগ করে আদালতে গিয়েছিলেন পার্থ। এর পর আদালতের নির্দেশে পার্থ বাবু নিজের টাকায় চিকিৎসা করাতে ভর্তি হয়েছেন মুকুন্দপুরের আরএন টেগোর হাসপাতালে। সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। চিকিৎসকরা আগেই জানিয়েছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বেহিসেবি জীবনই আর খাওয়া দাওয়ার কারনেই তাঁর এতটা শারীরিক সমস্যা হচ্ছে। জেলে প্রায়শই খাসীর মাংশ দিয়ে পেট ভর্তি ভাত খেতেন তিনি।
এদিকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে সুপ্রিম কোর্ট পার্থ চট্টোপাধ্যায়ক জামিন দিয়েছিল। তবে, এই জামিন শর্তসাপেক্ষে দেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে যে, ১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে চার্জ গঠন প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে এবং সাক্ষীদের বয়ান গ্রহণ করতে হবে। আদালত জানিয়েছিল ১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে পার্থ জামিন পাবেন। এবং জানুয়ারি মাসের মধ্যেই চার্জ গঠন করতে হবে ইডিকে।
কথা ছিল জানুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যে এই মামলার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের বয়ান নেওয়ার চেষ্টা করবে ট্রায়াল কোর্ট। পার্থকে ট্রায়াল কোর্টের সঙ্গে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। ১ ফেব্রুয়ারির আগে যদি চার্জ গঠন এবং সাক্ষীদের বয়ান গ্রহণ হয়ে যায়, তবে তার আগেও জামিন পেয়ে যাবেন পার্থ। কিন্তু কপাল খারাপ এর মধ্যেই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। এখন কবে তিনি সুস্থ হন আর কবে তাঁর জামিন হয় সেটাই দেখার।
২০২২ সালের জুলাই মাসে রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেপ্তার করে ইডি। গ্রেপ্তারের পরই রাজ্যের শীর্ষ তৃণমূল নেতৃত্ব তাঁকে দলের সব পদ থেকে সরিয়ে দেয়। একই সময় তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং অভিনেত্রী অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়, যেখানে কোটি কোটি টাকা এবং গয়না উদ্ধার করা হয়। এরপর তাঁকেও গ্রেপ্তার করা হয়। কিছুদিন আগে এই মামলায় জামিন পেয়েছেন অর্পিতাও।



