নজরবন্দি ব্যুরো: এক বছরেরও বেশি সময় ধরে জেলবন্দি রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। বারংবার জামিনের আবেদন জানানো হলেও তা খারিজ হয়ে গিয়েছে। প্রতিবারই তদন্তকারীদের তরফে দাবি করা হয় অত্যন্ত প্রভাবশালী পার্থ, তাঁকে জামিন দিলে তদন্ত প্রভাবিত হতে পারে। বৃহস্পতিবার ফের ইডি আদালতে খারিজ হল প্রাক্তন মন্ত্রীর জামিনের আর্জি। আদালতের অর্ডার কপিতে তাঁর প্রসঙ্গে উল্লেখ করা হল, ‘মোস্ট ইনফ্লুয়েন্সিয়াল পার্সন’।
আরও পড়ুন: প্রশ্ন এড়ালে আরও সন্দেহ বাড়ে! নুসরতের ‘একতরফা’ সাংবাদিক বৈঠক নিয়ে মত মদনের
বৃহস্পতিবার ইডি আদালতে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের জামিন মামলার শুনানি ছিল। ইডির তদন্তকারী আধিকারিকরা জামিনের বিরোধিতা করে সওয়াল করেছে। এদিনের শুনানি শেষে রায়দান করে আদালত। অর্ডার কপিতে উল্লেখ করা হয়, “অভিযুক্ত অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি। তাঁকে জামিন দিলে আগামী দিনে এই মামলার তথ্য ও প্রমাণ লোপাট করা এবং তদন্তকে প্রভাবিত করার আশঙ্কা রয়েছে।” এছাড়াও পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতিতে যুক্ত থাকার একাধিক তথ্য প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্ত করছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ইডি। গ্রেফতারির পর থেকেই জামিনের চেষ্টা করছেন প্রাক্তন মন্ত্রী। কিন্তু তদন্তকারী আধিকারিকরা আদালতে একের পর এক যুক্তি দেখিয়ে মনে করিয়ে দিচ্ছেন পার্থ কতটা প্রভাবশালী, তাঁর জামিন মঞ্জুর হলে তদন্ত কীভাবে প্রভাবিত হতে পারে!

পার্থ চট্টোপাধ্যায় যে প্রভাবশালী, একথা বোঝাতে ইডির তরফে বলা হয়েছিল, গ্রেফতার হওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করেছিলেন পার্থ। গ্রেফতার মেমোতে আত্মীয় হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম উল্লেখ করেছিলেন। এখানেই শেষ নয়, জেলবন্দি অবস্থায় কত কী সুবিধা পেয়েছেন সেই বিষয়গুলিও তুলে ধরা হয়। ইডি জানায়, গ্রেফতারির পর যেখানে হাতের আংটি খুলে ফেলতে হয়, সেখানে প্রাক্তন মন্ত্রী দীর্ঘদিন নিজের হাত থেকে আংটি খোলেননি (যদিও অনেক বিতর্কের পর আংটি খুলে ফেলেন পার্থ)। আদালতে আসার জন্য তাঁর জন্য আলাদা গাড়ির ব্যবস্থা করা হত বলেও উল্লেখ করা হয়।

উল্লেখ্য, গত বছর ২৩ জুলাই নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় (Reccruitment Scam) নিজের বাড়ি থেকেই রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করে ইডি। তাঁর ঘনিষ্ঠ বান্ধবী অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের দুটি ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয়েছে টাকার পাহাড়। অর্পিতা জেরায় দাবি করেছিলেন, এই সমস্ত টাকা পার্থর। তদন্তকারীদের দাবি, নিয়োগ দুর্নীতিতে সরাসরি জড়িত পার্থ চট্টোপাধ্যায়। এদিকে তাঁর জামিনের পথেই বারবার বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে ‘প্রভাবশালী’ তকমা। আজ তাঁর জামিন খারিজ হয়ে যাওয়া এবং অর্ডার কপিতে পার্থকে ‘মোস্ট ইনফ্লুয়েন্সিয়াল পার্সন’ হিসেবে উল্লেখ করায় প্রাক্তন মন্ত্রী কী আরও বিপাকে পড়লেন? এই প্রশ্নই ঘুরছে ওয়াকিবহাল মহলে।
মোস্ট ইনফ্লুয়েন্সিয়াল পার্সন, ফের খারিজ প্রাক্তন মন্ত্রীর জামিন, আরও বিপাকে পার্থ?




