শুধুই বন্ধুত্ব, না বন্ধুত্বের চেয়েও বেশি কিছু? পার্থর ‘স্বীকারোক্তি’তে সিলমোহর অর্পিতার

তিন বছরের জেলজীবনের পর বাড়ি ফিরে পার্থ চট্টোপাধ্যায় ঘোষণা করেছেন— অর্পিতা তাঁর ‘পারিবারিক বান্ধবী’। অর্পিতার সায়, “বান্ধবী থাকা অপরাধ নয়, এটা প্রেম নয়।”

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

তিন বছর তিন মাসের কারাবাস শেষে বাড়ি ফিরেছেন প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Partha Chatterjee)। বুধবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি প্রকাশ্যে জানালেন, “অর্পিতা আমার বান্ধবী, পারিবারিক বান্ধবী।” আর সেই বক্তব্যে সায় দিলেন অভিনেত্রী অর্পিতা মুখোপাধ্যায় (Arpita Mukherjee)-ও। তাঁর স্পষ্ট মন্তব্য, “বান্ধবী থাকা অপরাধ নয়, এটা পরকীয়া নয়।”

পার্থর বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই যোগাযোগ করা হয় অর্পিতার সঙ্গে। তিনি বলেন, “যদি উনি আমাকে বান্ধবী ভাবেন, আমি বন্ধু বলেই মানি। উনি তো আমার বন্ধুই। এতে দোষের কিছু দেখি না। এটা কোনও প্রেম বা পরকীয়া নয়। বন্ধুত্ব থাকা অন্যায় নয়।”

তবে শুধুই বন্ধুত্ব, না বন্ধুত্বের চেয়েও বেশি কিছু— সেই প্রশ্নের জবাব দিতে অনিচ্ছুক অর্পিতা। জানিয়েছেন, জেল থেকে ফেরার পর পার্থর সঙ্গে এখনও তাঁর কোনও যোগাযোগ হয়নি। ভবিষ্যতে কথা বলবেন কি না, সে সিদ্ধান্তও অনিশ্চিত।

‘বান্ধবী’ অর্পিতার স্বীকৃতি, “এটা পরকীয়া নয়”— পার্থর পাশে দাঁড়ালেন অভিনেত্রী
‘বান্ধবী’ অর্পিতার স্বীকৃতি, “এটা পরকীয়া নয়”— পার্থর পাশে দাঁড়ালেন অভিনেত্রী

অভিযান থেকে গ্রেফতারি: বিতর্কের সূত্রপাত
২০২২ সালে অর্পিতার দক্ষিণ কলকাতা ও বেলঘরিয়ার দুটি ফ্ল্যাট থেকে ইডি (ED) উদ্ধার করেছিল প্রায় ৫০ কোটি টাকার নগদ অর্থ। এর পরই গ্রেফতার হন তৃণমূল নেতা পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও তাঁর ঘনিষ্ঠ অর্পিতা মুখোপাধ্যায়। দীর্ঘ কারাবাসের পর মঙ্গলবার মুক্তি পান পার্থ।

এই ঘটনায় বারবার নিজের নির্দোষতার দাবি করেছেন তিনি। বুধবারও বলেন, “আমার বাড়ি থেকে কোনও টাকা পাওয়া যায়নি। বান্ধবীর বাড়ি থেকে পাওয়া গেছে। তাই বান্ধবীই তার জবাব দেবে।”

এর জবাবে অর্পিতার বক্তব্য, “আমি কোনও ভাবেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নই। মামলা বিচারাধীন, আদালতের উপর আমার পূর্ণ আস্থা আছে।”

অর্পিতার ক্ষোভ: “একজন মেয়েকে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল”
দীর্ঘ দুই বছর চার মাসের জেলজীবনের স্মৃতি আজও ভুলতে পারেননি অর্পিতা। বলেন, “আমাকে সকালে বাড়ি থেকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কেউ প্রশ্ন তোলেনি। আমি কোনও অপরাধ করিনি, তবু সমাজ ও সংবাদমাধ্যম আমাকে অপমান করেছে।”

তবে তিনি কোনও রাগ বা প্রতিশোধের ভাষা ব্যবহার করতে চাননি। বলেন, “সময়ের অপেক্ষা করছি। সত্য একদিন নিজেই প্রকাশ পাবে।”

রাজনীতি থেকে দূরে, কিন্তু বন্ধুর পাশে
পার্থ কি রাজনীতিতে ফিরবেন? প্রশ্নের জবাবে অর্পিতা বলেন,“ওঁর রাজনীতি দেখে আমি বন্ধুত্ব করিনি। আমি রাজনীতির মানুষ নই। আমাকে কি কখনও ২১ জুলাইয়ের মঞ্চে বা রাজনৈতিক সভায় দেখেছেন? বন্ধুত্ব রাজনীতির বাইরে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “ওঁকে এখন অনেক কিছু প্রমাণ করতে হবে। মানুষকে আবার বিশ্বাস করাতে হবে।”

সমালোচকদের জবাব পার্থর
অর্পিতাকে নিয়ে বিতর্কে পার্থর সাফ কথা, “আমার স্ত্রী প্রয়াত। কোনও মহিলা যদি পারিবারিক বন্ধুত্ব করতে চান, তাতে আপত্তি কোথায়? অর্পিতা অভিনেত্রী। ওঁকে যে ভাবে অসম্মান করা হয়েছে, তা অন্যায়।”

পার্থ আরও বলেন, “কারও দুটো স্ত্রী থাকতে পারে, আর আমার এক বান্ধবী থাকলেই সমস্যা?”

অর্পিতার বক্তব্যে আবেগ ও মর্যাদার সুর
অর্পিতা স্পষ্ট বলেন, “আমার বয়স কম, উনি জীবনে অনেক দেখেছেন। সত্য কী, সেটা উনি জানেন। উনি অসুস্থ মানুষ, এখন ওঁর পাশে থাকা দরকার।”

তাঁর দাবি, সমাজ ও সংবাদমাধ্যম তাদের সম্পর্ক নিয়ে “অতিরঞ্জিত গল্প বানিয়েছে”। তবে নিজের অবস্থান নিয়ে তিনি স্থির— “আমি যা ছিলাম, তাই আছি। সময়ই সব প্রমাণ দেবে।”

এদিকে পার্থ চট্টোপাধ্যায় এখন ফের রাজনীতির মঞ্চে সক্রিয় হচ্ছেন।
বেহালা পশ্চিমের বিধায়ক হিসাবে জনগণের উদ্দেশে খোলা চিঠি লিখেছেন, দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছেও চিঠি পাঠিয়ে জানতে চেয়েছেন কেন তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল।
তবে অর্পিতা স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি এখন রাজনীতি থেকে দূরেই থাকতে চান।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন