নজরবন্দি ব্যুরো: রাত পোহালেই পঞ্চায়েত ভোট। গোটা রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়েই ভোট করানোর নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। এমনকি বুথে কীভাবে রাজ্য পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী ব্যবহার করা হবে তাও জানিয়েছিল উচ্চ আদালত। বিষয়টি তদারকি করার দায়িত্ব দেওয়া হয় বিএসএফ আইজিকে। সেইমত প্ল্যান কমিশনের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাতে দেখা যাচ্ছে সব বুথে বাহিনী থাকছে না। তাহলে কোথায় কোথায় থাকছে সেন্ট্রাল ফোর্স!
আরও পড়ুন: অমিত শাহের ভবিষ্যদ্বাণী তৃণমূলের পক্ষে হয়! ভোট নিয়ে বিজপিকে খোঁচা Abhishek Banerjee-র
বিএসএফ আইজির প্ল্যান অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে, সব বুথে নয়, কেবল স্পর্শকাতর বুথেই কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে। প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় বাহিনী সেকশন অনুযায়ী মোতায়েন করা হয়। একটি সেকশনে কমপক্ষে ৮ জনের বেশি থাকেন। কিন্তু ভোটের সময় তাদের বিভক্ত করা হয়। কিন্তু সর্বনিম্ন ৪ জনকে মোতায়েন করতে হয়। এনিয়ে কমিশনকে জানিয়েছিল বিএসএফ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকেও চিঠি পাঠানো হয়েছিল। তারপরই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের প্ল্যান জানিয়ে দেওয়া হল। গত সোমবার কলকাতা হাইকোর্টে রাজ্য নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল তাদের আর্জি মেনেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক বাকি ৪৮৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠাতে রাজি হয়েছে। অর্থাৎ বাংলায় ৮২২ কোম্পানি বাহিনী উপস্থিত থাকবে। এর নিরিখেই হাইকোর্টের তরফে একাধিক দফায় ভোট করানোর দাবিতে দায়ের হওয়া মামলা খারিজ করে দেওয়া হয়। প্রধান বিচারপতি জানিয়ে দেন, বাংলায় পর্যাপ্ত বাহিনী রয়েছে। ভোট এক দফাতেই হবে।

পঞ্চায়েত ভোট ঘোষণার পরই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবিতে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করে বিরোধী দলের নেতারা। মনোনয়ন পর্বের অশান্তিকাণ্ডের পর উচ্চ আদালত বিরোধীদের দাবি মেনে কেবল স্পর্শকাতর বুথ নয় গোটা রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ভোট করানোর নির্দেশ দেয়। এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যায় কমিশন। যদিও বিশেষ সুবিধা হয়নি। হাইকোর্ট এবং দেশের শীর্ষ আদালতের দাবি মেনেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে প্রথমে ২২ কোম্পানি এবং পরে ৮০০ কোম্পানি চেয়ে চিঠি পাঠান রাজ্য নির্বাচন কমিশনার। যদিও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে ৩১৫ কোম্পানি পাঠানোর কথা জানান হলেও বাকি ৪৮৫ কোম্পানি নিয়ে নীরব ছিল কেন্দ্র। বাংলায় পর্যাপ্ত বাহিনী মজুত থাকবে কিনা তা নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছিল। যদিও গত সোমবার আদালতে পুরোটাই স্পষ্ট হয়ে যায়।

এরপরও কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে একাধিক জট দেখা যায়। সব বুথেই কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এ নিয়ে হাইকোর্ট নির্দেশ দেয় প্রত্যেক বুথে ৫০ঃ৫০ অনুপাতে রাজ্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী ব্যবহার করতে হবে। অর্থাৎ একটি বুথে যত সংখ্যক রাজ্য পুলিশ থাকবে সমান সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনীকেও রাখতে হবে। বাহিনী কোথায় কিভাবে মোতায়েন হবে তার নজর দারির দায়িত্ব দেওয়া হয় বিএসএফ আইজিকে। গতকাল হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম আরও একটি নির্দেশ দেন যে ভোট গণনার পর ১০ দিন কেন্দ্রীয় বাহিনী রাজ্যে থাকবে।
হাইকোর্টের নির্দেশে পরও সব বুথে থাকছে না কেন্দ্রীয় বাহিনী! কোথায় মোতায়েন করা হচ্ছে সেন্ট্রাল ফোর্স




