নজরবন্দি ব্যুরো: নজিরবিহীন ঘটনা! পশ্চিমবঙ্গে ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত ভোট আবহে সংঘাতে জড়াল দেশের দুই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। আর এই সংঘাতে জড়িয়ে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য নির্বাচন কমিসন হাইকোর্টের দ্বারস্থ হল জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের বিরুদ্ধে। ভারতের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এ ঘটনা বিরল থেকে বিরলতম।
আরও পড়ুন:মনোনয়নেই অগ্নিগর্ভ ভাঙড়, নিরাপত্তা চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ ISF


গত রবিবার জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের তরফে পর্যবেক্ষক নিয়োগের ঘোষণা করা হয়। তারা জানায়, রাজ্যের নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় রক্ষা করেই কাজ করবেন মানবাধিকার কমিশনের ডিজি। আর এতেই দুই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান এখন সম্মুখ সমরে।

পঞ্চায়েত ভোট নিয়ে অশান্তির মধ্যেই রাজ্যে নিজেদের পর্যবেক্ষক পাঠাবে জানিয়েছিল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে কলকাতা হাইকোর্টে গেল রাজ্য নির্বাচন কমিশন। আদালতের কাছে তারা জানতে চেয়েছে, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কি আদৌ রাজ্য নির্বাচন কমিশনের ওপর নজরদারি করার এক্তিয়ার আছে? হাইকোর্টের কাছে নির্বাচন কমিশনের প্রশ্ন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন কি এই ব্যাপারে অতিসক্রিয়তা দেখাচ্ছে? অর্থাৎ রাজ্য নির্বাচন কমিশন জাতীয় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অতিসক্রিয়তার অভিযোগ আনছে।



বুধবার এই প্রশ্ন তুলে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। গত বৃহস্পতিবারই রাজ্যে পঞ্চায়েত ভোটের বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহা। পঞ্চায়েত ভোটের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, রাজ্যে পঞ্চায়েত ভোট হওয়ার কথা আগামী ৮ জুলাই। যার জন্য মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর্ব শুরু হয়েছে ৯ জুন থেকে। চলবে বৃহস্পতিবার অর্থাৎ ১৫ জুন পর্যন্ত।
নজিরবিহীন ঘটনা! পঞ্চায়েত ভোট নিয়ে আদালতে দুই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান

ইতিমধ্যেই মনোনয়ন জমা দেওয়া নিয়ে রণক্ষেত্রের বিভিন্ন এলাকা থেকে অশান্তির খবর সামনে আসছে। এই অশান্তির আবহেই মনোনয়ন-পর্বে গোলমালের ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ করে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। যাকে অতিসক্রিয়তা বলে মন্তব্য করেছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। কমিশনের যুক্তি, একটি স্বাধীন সংস্থার কাজের ওপর অন্য স্বাধীন সংস্থা নজরদারি করতে পারে না। চলতি সপ্তাহেই এই মামলার শুনানি হতে পারে।







