পাকিস্তানে তীব্র জ্বালানি সংকট! পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা এবং তেল সরবরাহে ব্যাঘাতের জেরে পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রদেশে পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি প্রায় শেষ। বহু জায়গায় পাম্প বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন মালিকরা। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে কিছু এলাকায় এক লিটার পেট্রোলের দাম ৩০০ পাকিস্তানি টাকারও বেশি নেওয়া হচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে খবর। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলিও জ্বালানি সরবরাহের চাপের বিষয়টি তুলে ধরেছে।
কয়েকদিন আগেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সরকার জানিয়েছিল, দেশে মাত্র ১৪ দিনের পেট্রোল মজুত রয়েছে। সেই ঘোষণার পরই দেশের বিভিন্ন শহরে পেট্রোল কেনার জন্য হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হতে শুরু করে এবং কয়েক দিনের মধ্যেই বহু পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি ফুরিয়ে যায়।


এই পরিস্থিতি নিয়ে করাচিতে সাংবাদিক বৈঠক করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে Pakistan Petroleum Dealers Association। তাদের দাবি, সরবরাহ পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে দেশের বহু পাম্প বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ইতিমধ্যেই অনেক পাম্পে কার্যত জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানের জ্বালানি বাজার দীর্ঘদিন ধরেই একটি বড় অংশে ইরান থেকে অবৈধভাবে আমদানি হওয়া তেলের উপর নির্ভরশীল। অনুমান করা হয়, পাকিস্তানের মোট তেলের চাহিদার প্রায় ৩৫ শতাংশই এই অবৈধ ইরানি তেল দিয়ে পূরণ হয়।
সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীলতা রয়েছে বেলুচিস্তান প্রদেশে। সেখানে প্রায় ৮০ শতাংশ তেলই ইরান থেকে আসে বলে বিভিন্ন রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। একইভাবে সিন্ধু, পাঞ্জাব এবং খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বহু এলাকাও ইরানি জ্বালানির উপর নির্ভরশীল।


ইরান থেকে আসা তেলের দাম পাকিস্তানের সরকারি পেট্রোলের তুলনায় অনেক কম। বর্তমানে পাকিস্তানে সরকারি পেট্রোলের দাম প্রতি লিটার প্রায় ২৬৬ টাকা, সেখানে ইরানি পেট্রোল পাওয়া যায় প্রায় ১৭২ টাকা লিটার দরে। সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পেট্রোল ও ডিজেল অবৈধভাবে ঢুকিয়ে বিক্রি করা হয়।
তবে সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় সেই সরবরাহে বড় ধাক্কা লেগেছে। ফলে বেলুচিস্তানসহ একাধিক প্রদেশে জ্বালানি ঘাটতি ভয়াবহ আকার নিয়েছে।
খবর অনুযায়ী, বেলুচিস্তানের ৭০ শতাংশেরও বেশি পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি নেই। একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে পাঞ্জাব, সিন্ধু এবং খাইবার পাখতুনখোয়ার বিভিন্ন এলাকায়। অনেক ডিলার ভবিষ্যতের ঘাটতির আশঙ্কায় অতিরিক্ত জ্বালানি মজুত করে রাখছেন বলেও অভিযোগ উঠছে।
ফলে সাধারণ মানুষকে পেট্রোল কিনতে গুনতে হচ্ছে অনেক বেশি দাম। পাঞ্জাবের একাধিক এলাকায় এক লিটার পেট্রোল ৩০০ টাকার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে পাকিস্তানে জ্বালানি সংকট আরও গভীর হতে পারে বলেই আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



