বাংলাদেশে জুলাই আন্দোলনের অন্যতম ছাত্রনেতা ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি-র হত্যার পর রাজনৈতিক উত্তাপ আরও চড়ছে। খুনিরা এখনও অধরা থাকায় অন্তর্বর্তী সরকারের উপর চাপ বাড়িয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার না হলে সরকারের শীর্ষস্তরে দায়বদ্ধতা নির্ধারণের দাবি তোলা হবে।
শেষকৃত্য ও জনসমাবেশ
শনিবার ঢাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পাশের কবরস্থানে এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধি-সংলগ্ন স্থানে হাদির দাফন সম্পন্ন হয়। জানাজায় বিপুল মানুষের উপস্থিতি ছিল। শেষকৃত্যের পর শাহবাগ চত্বরে সমাবেশে সরকারের উদ্দেশে সংগঠনের বার্তা আরও স্পষ্ট করা হয়।
ইনকিলাব মঞ্চের কড়া দাবি
সমাবেশ থেকে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা আব্দুল্লা আল জাবের বলেন, “হাদির খুনিদের ধরতে সরকার কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা জনসমক্ষে জানাতে হবে। তদন্তের অগ্রগতিও প্রকাশ করা জরুরি।” তাঁর সংযোজন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা না হলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদাবক্স চৌধুরী-র পদত্যাগ দাবি করা হবে।

ইউনুসের বক্তব্য
হাদির শেষযাত্রায় উপস্থিত হয়ে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনুস বলেন, “হাদি আমাদের হৃদয়ে বাস করে। তাঁর দেখানো নম্রতা, সহমর্মিতা ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক চর্চা থেকে আমরা শিক্ষা নেব।” তিনি রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে আরও সংযত ও মানবিক করার অঙ্গীকারের কথাও বলেন।
পটভূমি ও নিরাপত্তা উদ্বেগ
হাদি গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার রাস্তায় গুলিবিদ্ধ হন। সরকারি উদ্যোগে তাঁকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও বৃহস্পতিবার রাতে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুসংবাদের পর বিভিন্ন শহরে সহিংসতার খবর সামনে আসে—সংবাদমাধ্যম, কূটনৈতিক স্থাপনা ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ উঠেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের উপর নজরদারি ও দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জোরালো হয়েছে।



