নজরবন্দি ব্যুরোঃ ভোটে হেরে মুখ্যমন্ত্রী! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে তাঁর শপথ গ্রহণের দিন এমন ্মন্তব্যই করলেন নন্দীগ্রামের প্রতিপক্ষ এবং প্রাক্তন সেনাপতি শুভেন্দু অধিকারী। নির্বাচনী প্রচার শুরুর আগে তখন সবে শুভেন্দু দল বদলে গিয়েছেন বিজেপিতে, আচমকা একদিন প্রচার মঞ্চ থেকে মমতা জানিয়েছিলেন, ভাবছি এবার ভোট নন্দীগ্রাম থেকেই লড়বো, কেমন হয়?
আরও পড়ুনঃ নবান্নে ফের হাওয়াই চটি! পুলিশের গার্ড অফ অনার শেষে ১৪ তলায় গেলেন মমতা
নন্দীগ্রাম অধিকারী পরিবারের গড়, ভবানীপুর ছেড়ে মাননীয়ার নন্দীগ্রামে দাঁড়ানোয় শুভেন্দুও গেরুয়া শিবিরকে রাজি করিয়েছিলেন সেখানেই লড়বেন তিনি। তার পর থেকেই বাংলার ২১ এর বিধানসভা নির্বাচনে একেবারে কেন্দ্র বিন্দু ছিলো নন্দীগ্রাম। একদিকে প্রার্থী মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং, অন্যদিকে ঘরের ছেলে শুভেন্দু।
গোটা নির্বাচনী প্রচার থেকে ভোটের দিন এমনকি ভোটের গণনাতেও, পরতে পরতে উত্তেজনা রেখেছিল নন্দীগ্রাম। ভোট গণনার দিন প্রতি দফায় একজন অন্যজনকে টক্কর দিয়ে বিকেল নাগাদ ঘোষণা করা হয়েছিলো জয়ি মমতা, তার পরেই হয় ফের গণনা, এবং জানানো হয় মমতা নয়, প্রায় হাজার দুই ভোটের ব্যাবধানে নন্দীগ্রাম বাজি জিতে গিয়েছেন শুভেন্দু। এরপরই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে নন্দীগ্রামের পরিস্থিতি। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নন্দীগ্রামের ক্ষোভ জোরাল হতে শুরু করে। উঠে পুনর্গণনার দাবি।
রিটার্নিং অফিসারের একটি বার্তা তুলে এনেছিলেন মমতা, যিদিও কমিশনের তরফ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে আর কোনরকম গণনা হবেনা নন্দীগ্রামে। ঘোতনায় আদালতে যাবেন বলেও জানিয়েছেন তৃণ্মূল সুপ্রিমো। তবে তৃণ্মুল কংগ্রেস থেকে মুখ্যমন্ত্রীর মুখ ছিলেন মমতাই, বারবার তিনি নিজেও প্রতি নির্বাচনী সভা থেকে জানিয়েছেন, ২৯৪ আসনে প্রার্থী তিনিই। ভোট মানুষ তাঁকেই দেবেন। তার পরই আজ রাজ ভবনে বেলা ১১টা নাগাদ শপথ নেন তিনি। কোভিদের কারণে তৃতীয় বার জয়ের পরের শপথ একেবারে অনাড়ম্বর কাটিয়েছেন মমতা।
ভোটে হেরে মুখ্যমন্ত্রী! তবে যে বিপুল ব্যাবধানে বাংলার মানুষ তৃণ্মূল কংগ্রেসকে জিতিয়েছেন তার জন্য বাংলার সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে ভোট পরবর্তী হিংসার প্রেক্ষিতে বার্তা দিয়েছে কড়া হাতে হিংসা প্রতিরোধ করার। রাজভবনের অনুষ্ঠান শেষে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নবান্নে গেছেন মমতা। তৃতীয় বার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে হাওয়াই চটি যাওয়ার পরেই কটাক্ষ করেছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, “ভোটে হেরে মুখ্যমন্ত্রী হলেন। এর আগে এই রাজ্যে এমন হয়নি। ২১৩ জন বিধায়কের মধ্যে কাউকে খুঁজে পাওয়া গেল না মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে। এই জন্য তো বলেছিলাম লিমিটেড কোম্পানি।” সঙ্গে তিনি আরো বলেন, তিনি বললেন, “আমাদের লড়াই চলবে। যেভাবে মারা হচ্ছে , ধর্ষণ করা হচ্ছে , ভাবা যায় না। সব বিরোধী দল শপথ গ্ৰহণ অনুষ্ঠান বয়কট করেছে। সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।”



