২০১৪ সালে প্রথমবারের জন্য ক্ষমতায় আসার পরেই ‘এক দেশ এক ভোট’ তত্ত্ব প্রকাশ্যে আনে বিজেপি। আর এবার কিন্তু সেই নীতি কার্যকরের দিকে আরও একধাপ এগোল নরেন্দ্র মোদী সরকার। ‘এক দেশ এক ভোট’ নীতি কার্যকরের উদ্দেশে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের নেতৃত্বে একটি কমিটি গড়া হয়। বৃহস্পতিবার কোবিন্দ রাষ্ট্রপতি ভবনে গিয়ে দ্রৌপদী মুর্মুর হাতে রিপোর্ট তুলে দিলেন। উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং কমিটির অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।
আরও পড়ুন: বাংলাকে ‘এক’ পয়সাও দেয়নি মোদী সরকার? বিজেপি নেতাদের ‘মুখোমুখি’ বসার চ্যালেঞ্জ অভিষেকের


লোকসভা নির্বাচনের আগেই দেশজুড়ে সংশোধনী নাগরিকত্ব আইন কার্যকর করতে চলেছে বিজেপি সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে সেই সিদ্ধান্তকে সিলমোহর দেওয়া হয়েছে। সিএএ নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই আবার একটি নয়া বিতর্ক উস্কে গেল। ‘এক দেশ এক ভোট’ নীতির আট খণ্ডে বিভক্ত ১৮ হাজার পাতার রিপোর্ট তুলে দেওয়া হল রাষ্ট্রপতির হাতে।
প্রথম থেকেই ‘এক দেশ এক ভোট’ নীতির বিরোধিতা করে আসছে কংগ্রেস, সিপিআইএম এবং তৃণমূলের মতো বিজেপি-বিরোধী দলগুলি। কিন্তু, সে সবকে পরোয়া না করেই এই নীতিকে কার্যকর করতে চায় বিজেপি সরকার। তাঁদের যুক্তি, এই নীতি কার্যকর হলে নির্বাচনের খরচ কমবে, একবারে ভোট হলে সরকারি কর্মচারীদের চাপ কমবে এবং সর্বোপরি উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলি আরও দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে।
যদিও বিরোধিদের অভিযোগ খুব স্পষ্ট, একসাথে লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচন হলে বৈচিত্র্য নষ্ট হবে। বিজেপির পক্ষের সবটা থেকে যাবে। তাছাড়া কংগ্রেসের সঙ্গে আঞ্চলিক দলগুলির মতভেদ এতটাই তীব্র পর্যায়ে পৌঁছে যাবে যে বিজেপি-বিরোধি শক্তি বলতে আর কিছু অবশিষ্ট থাকবে না। তাছাড়া, এই নীতি যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো এবং সংসদীয় গণতান্ত্রিক ভাবনার পরিপন্থী বলেও অভিযোগ তুলেছেন বিরোধীরা।









