নজরবন্দি ব্যুরো: কথাই ছিল, বুধবার দুপুরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে চাউর হওয়া অভিযোগের জবাব দেবেন তৃণমূলের অভিনেত্রী সাংসদ নুসরত জাহান। আর এবার জবাবও দিলেন তিনি। নুসরতের সাফ কথা, তাঁর সঙ্গে যে আর্থিক লেনদেনের তথ্য সামনে এসেছে সেই অর্থ তিনি ঋণ নিয়েছিলেন সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছ থেকে, এবং তা সুদ সমেত ফেরতও দিয়ে দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: ভারতীয় সেনায় পাক চর? সিবিআইকে দ্রুত FIR করে তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের


আজ সাংবাদিক বৈঠকে মাত্র ১০ মিনিট ছিলেন নুসরত জাহান। উত্তর দিলেন না সাংবাদিকদের একটা প্রশ্নেরও। বরং সাময়িকভাবে মেজাজও হারালেন তিনি। আজ ঠিক কী বললেন নুসরত? অভিনেত্রী সাংসদের বক্তব্য, “যে সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিলাম, তাদের থেকেই ১ কোটি ১৬ লক্ষ ৩০ হাজার ২৮৫ টাকার ঋণ নিয়েছিলাম। সেই টাকায় বাড়ি কিনেছি। ২০১৭ সালের ৬ মে সুদ-সহ ১ কোটি ৪০ লক্ষ ৭১ হাজার ৯৯৫ টাকা ফেরত দিয়েছি কোম্পানিকে। ব্যাঙ্কের নথিও আমার কাছে আছে। ৩০০ শতাংশ চ্যালেঞ্জ করতে পারি যে, আমি দুর্নীতিতে যুক্ত নই। আমি এক পয়সা নিলেও এখানে আসতাম না। আদালতের তদন্তাধীন বিষয়, সেইভাবে তদন্ত হোক। এই ঘটনার সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক যোগ নেই”।

ঠিক কী অভিযোগ রয়েছে নুসরতের বিরুদ্ধে? নুসরতের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি নাকি ২০১৪ সালে ৪২৯ জনের কাছ থেকে ৫ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা করে নেন। মোট ২৪ কোটি টাকা নাকি তিনি প্রতারণা করে আত্মসাৎ করেছেন। এমনকি প্রতারিতদের নিয়ে ইডির দফতরে গিয়ে নালিশ জানান তিনি। অভিযোগটি করেছেন, বিজেপি নেতা শঙ্কুদেব পণ্ডা। তাঁর বয়ানে, গড়িয়াহাট রোডে মেসার্স সেভেন সেন্স ইনফাস্ট ট্রাকচার প্রাইভেট লিমিটেড নামে একটি কোম্পানি আছে। সেই কোম্পানির ডিরেক্টর তৃণমূল সাংসদ নুসরত জাহান। এই সংস্থার মাধ্যমেই টাকা তুলে আত্মসাৎ করেছেন নুসরত বলে অভিযোগ।



শঙ্কু আরও বলেছেন, প্রায় ৯ বছর কেটে যাওয়ার পর আজও ফ্ল্যাট পাওয়া যায়নি। সেই সময় নাকি নুসরতের সংস্থা দাবি করেছিল, রাজারহাট হিডকোর কাছে ফ্ল্যাট দেওয়া হবে এই ৪২৯ জনকে। তিন বছরের মধ্যেই ফ্ল্যাটগুলি হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। এরপর আদালতের দ্বারস্থ হন। পরে আদালতের নির্দেশেই পুলিশ তদন্ত শুরু করে।
ঋণ ছিল সুদসমেত সবটা ফেরত দিয়েছি, সাফাই দিয়ে মেজাজ হারালেন নুসরত!








