রোম নয় মৃত্যুপুরী আমার তিলোত্তমা, প্রথম আর তৃতীয় বিশ্ব মিলেমিশে একাকার ধাপায়।

রোম নয় মৃত্যুপুরী আমার তিলোত্তমা, প্রথম আর তৃতীয় বিশ্ব মিলেমিশে একাকার ধাপায়।
রোম নয় মৃত্যুপুরী আমার তিলোত্তমা, প্রথম আর তৃতীয় বিশ্ব মিলেমিশে একাকার ধাপায়।

অর্ক সানা, সম্পাদক(নজরবন্দি): রোম নয় মৃত্যুপুরী আমার তিলোত্তমা, ধাপায় পুড়ছে সহ-নাগরিক, একের পর এক মৃতদেহ আসছে। সবাই অকালে ঝরে গেছে করোনার করাল মৃত্যু থাবায়। কলকাতা এবং তার পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে মৃতদেহ আসছে লাইন দিয়ে। সবাই করোনা আক্রান্ত, কিন্তু সবাই আবার করোনায় মৃত নয়। সরকারের আজব হিসেবে দেহ পুড়ছে একই যায়গায় কিন্তু সরকারি খাতায় নাম উঠছে না করোনা মৃত হিসেবে!

কারন সব মৃতদেহের কপালে করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট জীবনদশায় জোটেনি! কোন কোন সহ নাগরিক মারা যাওয়ার পর তাঁর বাড়ির লোকজন জানতে পারলেন তাঁর নিকট আত্মীয় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন। ধাপায় একের পর এক মৃতদেহ আসছে, সাথে হাতে গোনা পরিজন। কারও আবার সেটাও নেই! একাকী নিঃসঙ্গ, বেওয়ারিশ! ধাপায় লাইন পড়ছে মৃতদেহের, একসাথে সবাইকে ইলেকট্রিক চুল্লিতে তোলা যাচ্ছেনা। এখানেও অপেক্ষা! অস্থায়ী মর্গে রাখা হচ্ছে মৃতদেহ। তারপর নাম্বার এলে… পুড়ছে আমার-আপনার সহ নাগরিক। হৃদয় বিদারক দৃশ্য। করোনার প্রথম ধাক্কায় আমরা ইতালিকে মৃত্যুপুরী বলতাম। এখন চাক্ষুষ করছি..এই তিলোত্তমায়, সারে যাঁহা সে আচ্ছার দেশে। কবে শেষ হবে? উত্তর নেই কিন্তু ৩ রকম দামে একই ভ্যাকসিন আছে দেশে!

এদিকে, কোভিড সংক্রমণ, প্রতিকার, প্রতিরোধ ইত্যাদি বিষয়ে যা যা তথ্য বাতাসে ভাইরাসের মতোই ঘুরে বেড়াচ্ছে তা ঠিক কতটা বিশ্বাসযোগ্য আমার জানা নেই। ভারতীয় উপমহাদেশের অবস্থা তো তথৈবচ, ছোট্ট বেলা থেকে শুনছি আমরা তৃতীয় বিশ্বের দেশ। বিজ্ঞরা বলছেন, ভারতের – বাংলার লোকজন আসলে কোন কোভিড বিধি মানছে না! কিন্তু ভেবেছেন একবার এত ভয়াবহ ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ করার পদ্ধতি যদি এত সহজ হত, তাহলে ‘প্রথম বিশ্ব’ হ্যাঁ ঠিকই পড়ছেন, প্রথম বিশ্বের নাগরিকরা এত সংক্রামিত হচ্ছেন কীভাবে? সেখানে তো জনসংখ্যা কম, লোকজনও সভ্য বলে আমার ধারণা।

আর নাইট কার্ফিউ টাইপের ন্যাকামো গুলো ন্যাকাবোকা_ প্রেমিক প্রেমিকাদের মতো, মুখে ১০০ কাজে মাইনাস ১০০। আমরা রোম, লাস ভেগাস বা মায়ামি-তে বাস করি না যে নাইট কার্ফিউ আলাদা করে কোনও সমাধান করবে। একটা নোংরা যাচ্ছেতাই পরিস্থিতির উপর দাঁড়িয়ে আছি। অত্যন্ত ফিট, সব মেনে চলা সমাজের উচ্চস্তরের, এমনকি যাঁরা ফিটনেসের চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকেন সেই ফিল্মস্টারদের কোভিড আক্রমণ করছে। অন্যদিকে, আমাদের শহরে একটা বিরাট অঙ্কের জনসংখ্যা ফ্লাইওভারের তলায় জীবনযাপন করে। একটা বিরাট অঙ্কের জনসংখ্যা রিক্সা চালায়, একটা বিরাট অঙ্কের জনসংখ্যা রেড লাইট এরিয়ায় থাকে, ‘কাজ করে’। তাদের খবর কী? আরও অনেক অনেক প্রশ্ন উঁকি দেয়। মনে হয় কোভিড ১৯ শুধু ভাইরাস নয়, একটা গভীর রহস্য।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here