উত্তর হাওড়ার রাস্তায় রবিবারের এক দৃশ্য ঘিরে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। মাথা ন্যাড়া, পরনে গেঞ্জি ও অন্তর্বাস— পুলিশের ঘেরাটোপে এক ব্যক্তিকে রাস্তা দিয়ে হাঁটিয়ে নিয়ে যেতে দেখা যায়। পরে জানা যায়, তিনি এলাকায় পরিচিত এক অভিযুক্ত দুষ্কৃতী। ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইন প্রয়োগের পদ্ধতি ও তার বার্তা— দুই নিয়েই শুরু হয়েছে বিতর্ক।
পুলিশ সূত্রে দাবি, ওই ব্যক্তির নাম আকাশ সিং। তাঁর বিরুদ্ধে অতীতে একাধিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। ২০২১ সালে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠে। এছাড়াও বিস্ফোরণ ও একাধিক হামলার ঘটনায় তাঁর নাম উঠে এসেছিল বলে দাবি তদন্তকারীদের।
চলতি মাসের শুরুতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। রবিবার তাঁকে উত্তর হাওড়ার বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে অতীতের একাধিক ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি প্রশাসনের।
ঘটনার সময় অভিযুক্তের মাথা ন্যাড়া করা ও অন্তর্বাস পরে প্রকাশ্যে নিয়ে যাওয়া নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক স্তরে আলোচনা শুরু হয়েছে। পুলিশের একটি অংশের বক্তব্য, অপরাধমূলক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দৃঢ় বার্তা দিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে রাজনৈতিক মহলেও এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর আইনশৃঙ্খলা ও পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় কড়া অবস্থানের কথা আগেই জানিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সম্প্রতি প্রকাশ্য সভা থেকেও তিনি পুলিশকে কঠোর অবস্থান নেওয়ার বার্তা দিয়েছিলেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। একই সঙ্গে বিজেপি নেতাদের একাংশও এই ঘটনার ভিডিও ও ছবি সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেছেন।
তবে আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করিয়ে দিচ্ছেন, অপরাধ দমনে কঠোরতা গুরুত্বপূর্ণ হলেও অভিযুক্তের অধিকার ও আইনি প্রক্রিয়া বজায় রাখাও সমান জরুরি। ফলে এই ঘটনাকে ঘিরে আলোচনা আপাতত থামার লক্ষণ নেই।



