নতুন বছরের শুরুতেই উত্তরবঙ্গবাসীর জন্য বড় সুখবর। একই সফরে জোড়া উন্নয়নমূলক উপহার নিয়ে শুক্রবার শিলিগুড়ি যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একদিকে বাংলার সবচেয়ে বড় মহাকাল মন্দিরের শিলান্যাস, অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের বহুদিনের দাবি পূরণ করে উদ্বোধন হতে চলেছে কলকাতা হাই কোর্ট-এর সার্কিট বেঞ্চের স্থায়ী ভবন। প্রশাসনিক ও ধর্মীয়—দুই ক্ষেত্রেই এই সফর উত্তরবঙ্গের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
গত অক্টোবরে প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গে বারবার ছুটে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সফরের মাঝেই দার্জিলিঙের মহাকাল মন্দিরে পুজো দিয়ে ঘোষণা করেছিলেন—শিলিগুড়িতে গড়ে উঠবে বাংলার বৃহত্তম মহাকাল মন্দির। জানা গিয়েছে, মন্দির নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি চিহ্নিত, আইনি প্রক্রিয়াও সম্পন্ন। শুক্রবার বিকেলেই সেই মন্দিরের শিলান্যাস করবেন মুখ্যমন্ত্রী। দিঘায় জগন্নাথ মন্দির এবং নিউটাউনে দুর্গা অঙ্গনের পর, এবার উত্তরবঙ্গ পাচ্ছে মহাকাল মন্দির—রাজ্যের ধর্মীয় পরিকাঠামোয় নতুন সংযোজন।
শুক্রবারের পরদিনই আরও এক ‘মেগা’ চমক। শনিবার উদ্বোধন হবে কলকাতা হাই কোর্টের সার্কিট বেঞ্চের স্থায়ী ভবন। উত্তরবঙ্গবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি মেনে রাজ্য সরকারের সহযোগিতায় জলপাইগুড়িতে তৈরি হয়েছে এই আধুনিক ভবন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত-সহ দেশের অন্তত ছ’টি হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতিরা। থাকবেন রাজ্য ও কেন্দ্রের একাধিক বিশিষ্ট অতিথিও।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে জলপাইগুড়িতে সার্কিট বেঞ্চ চালু হলেও এতদিন স্টেশন রোডের অস্থায়ী ভবনেই চলছিল বিচারকাজ। পরে জলপাইগুড়ি শহরের উপকণ্ঠে পাহাড়পুরে প্রায় ৪০ একর জমির উপর স্থায়ী ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। এবার সেই স্থায়ী পরিকাঠামোর উদ্বোধনের মাধ্যমে উত্তরবঙ্গে বিচারব্যবস্থার পরিসর আরও মজবুত হতে চলেছে।
সব মিলিয়ে বছরের শুরুতেই উত্তরবঙ্গবাসীর হাতে জোড়া উপহার তুলে দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। দীর্ঘদিন ধরে যে ‘বঞ্চনার’ অভিযোগ উঠেছে উত্তরবঙ্গকে ঘিরে, এই দুই উদ্যোগে সেই রাজনৈতিক বিতর্ক খানিকটা হলেও নরম হবে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।









