উত্তরবঙ্গের উন্নয়নকে সামনে রেখে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। উত্তরকন্যায় উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকের পর মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানান, অনুমোদনহীন খারিজি মাদ্রাসাগুলির উপর কড়া নজরদারি চালানো হবে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে তদন্তের জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের পাঁচ শহরকে নিয়ে ‘হিমালয়ান হিল সিটি’ গড়ার পরিকল্পনার কথাও সামনে এসেছে।
রবিবার উত্তরকন্যায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে মন্ত্রী, প্রশাসনের শীর্ষকর্তা, জেলাশাসক এবং পুলিশ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের পর অগ্নিমিত্রা পাল জানান, সরকারি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত মাদ্রাসাগুলিতে শিক্ষার মান ও পরিবেশ বজায় রাখতে মনিটরিং ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে। অন্যদিকে অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানগুলির কার্যকলাপও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
উত্তরবঙ্গের সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে শিলিগুড়ি, দার্জিলিং, কার্শিয়াং, কালিম্পং এবং মিরিককে নিয়ে ‘হিমালয়ান হিল সিটি’ প্রকল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। প্রকল্পের মাধ্যমে পর্যটন, নাগরিক পরিষেবা, পানীয় জল সরবরাহ এবং পরিকাঠামোর আধুনিকীকরণের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
মন্ত্রী জানান, শহরগুলিতে প্রতিটি বাড়িতে কিউআর কোড সংযুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সরকারি জমিতে আবাসন নির্মাণ, আধুনিক সুলভ শৌচালয় এবং পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে উন্নত পরিষেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে সামাজিক উন্নয়ন নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। বাল্যবিবাহ, নারী ও নাবালিকা পাচার এবং কিশোরী বয়সে গর্ভধারণের মতো ঘটনাগুলির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের কথা ঘোষণা করেছে সরকার। প্রশাসন, পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলিকে নিয়ে একটি বিশেষ টাস্ক ফোর্সও গঠন করা হবে।
উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন মন্দিরে ভক্ত সমাগমের তথ্য সংগ্রহেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ২০ তারিখের মধ্যে জনপ্রিয় মন্দিরগুলির তালিকা তৈরি করতে বলা হয়েছে প্রশাসনকে। সূত্রের খবর, ধূপকাঠি উৎপাদন কেন্দ্র গড়ার পরিকল্পনার সঙ্গে এই উদ্যোগের যোগ রয়েছে।
পরিচ্ছন্ন শহর গড়ার লক্ষ্যে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে উন্মুক্ত স্থানে আবর্জনা ফেলা এবং প্লাস্টিক ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। নিয়ম ভাঙলে জরিমানার ব্যবস্থাও থাকবে। পাশাপাশি অবৈধ পার্কিং নিয়ন্ত্রণে ১ জুলাই থেকে স্বয়ংক্রিয় পার্কিং ব্যবস্থাও চালু করা হবে।
মাদক পাচার রোধেও কড়া অবস্থান নিয়েছে সরকার। গাঁজা, ব্রাউন সুগার ও অন্যান্য মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পুলিশকে। একই সঙ্গে মাদকাসক্তদের পুনর্বাসনের জন্যও বিশেষ কর্মসূচি নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের মতে, উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন, আইনশৃঙ্খলা এবং সামাজিক নিরাপত্তাকে একসঙ্গে গুরুত্ব দিয়েই সরকার এই নতুন কর্মপরিকল্পনা তৈরি করেছে। আগামী কয়েক মাসে এই প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন কতটা এগোয়, সেদিকেই নজর থাকবে।



