সাধারণ কল রেকর্ড করা সম্ভব, কিন্তু হোয়াটসঅ্যাপ কল নয়। কিন্তু এই হোয়াটসঅ্যাপ কলেই আসে নানারকম নির্দেশ। আর সেই নির্দেশ পালন করার পর বিপদে পড়লে পাশে থাকেন না কেউ। এমন কি যিনি নির্দেশ দিয়েছেন তিনিও। পুলিশের নিচু তলার কর্মীরা বারবার ফেঁসে গিয়েছেন উপরতলাকে খুশী করতে। সব মিলিয়ে টালা থানার ওসি গ্রেফতার হওয়ার পর এবার বেঁকে বসেছেন কলকাতা পুলিশের নিচুতলার কর্মীরা। প্রায় ১৪ দফা দাবি এবং প্রস্তাব জানিয়েছেন তাঁরা।
সূত্রের খবর, প্রথম দাবি বা প্রস্তাবে বলা হয়েছে, অভিজিৎকে ‘আইনি সহায়তা’ দিতে হবে পুলিশকেই। তার ব্যয়ও বহন করতে হবে পুলিশকে। তিনি জামিন না পাওয়া পর্যন্ত প্রতিটি শুনানিতে আদালতে যেতে হবে অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার এবং ইনস্পেক্টর পদমর্যাদার আফিসারদের। অভিজিতের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি তাঁর সার্ভে পার্কের বাড়ির নিরাপত্তাও পুলিশের তরফে ‘সুনিশ্চিত’ করতে হবে।
সংবাদমাধ্যম ব্যবহার নিয়েও দাবি তোলা হয়েছে। নিচুতলার পুলিশ কর্মীদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পুলিশের বিরুদ্ধে যে সব চ্যানেল ‘একতরফা’ অভিযোগ তুলছে, সেখানে পাল্টা বক্তব্য জানানোর জন্য আনুষ্ঠানিক বা ঘোষিত ভাবে না হলেও প্রাক্তন কলকাতা পুলিশ বা রাজ্য পুলিশের অফিসারদের নিয়ে একটি ‘প্ল্যাটফর্ম’ তৈরি করতে হবে। ‘বাছাই’ কিছু চ্যানেলে তাঁদের পাঠাতে হবে। যাতে তদন্তে ব্যাঘাত ঘটবে না, এমন বিষয়ে তাঁরা পুলিশের হয়ে কথা বলবেন। পাশাপাশি কিছু চ্যানেলকে ‘বয়কট’ করারও দাবি তোলা হয়েছে।
অভিজিৎ গ্রেফতার হওয়ার পরে শীর্ষ পুলিশকর্তারা কেন মুখে কুলুপ এঁটেছিলেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পরিস্থিতি সাপেক্ষে তৎকালীন পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েলকে রবিবার লালবাজারে পুলিশকর্মীদের নিয়ে দফায় দফায় বৈঠকে বসতে হয়। বৈঠকে কলকাতার বিভিন্ন থানার ওসিরাও উপস্থিত ছিলেন বলে পুলিশ সূত্রের খবর।
বিনীত গোয়েলের সঙ্গে বৈঠকে বসার সময় উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন থানার ওসিরা। সূত্রের খবর, ওই বৈঠকে তৎকালীন নগরপাল বিনীত গোয়েলকে শ’খানেক নিচুতলার অফিসার ঘিরে ধরে বলেন, তাঁরা আর এর পর থেকে ‘হোয়াট্সঅ্যাপ কল’-এ কোনও নির্দেশ নেবেন না! সূত্রের দাবি পুলিশ কর্মিরা চেয়েছেন টালা থানার ওসি অভিজিৎ মণ্ডলের পাশে সবরকম ভাবে থাকতে হবে পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের। ‘বলি কা বকরা’ বানানো চলবে না। দৈনিক ১ ঘন্টা কর্মবিরতির কথাও বলা হয়েছে নিচুতলার পুলিশকর্মীদের তরফে।
কলকাতা পুলিশের নিচুতলার কর্মীদের তরফে সবমিলিয়ে ১৪ দফা দাবি ও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে উচুতলার কর্মীদের। সব মিলিয়ে জটিলতা তুঙ্গে। এবার থেকে যে আর হোয়াটসঅ্যাপ কলে দেওয়া নির্দেশ নিচুতলার কর্মীরা আর নেবেন না তা একপ্রকার নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সূত্র।



