বিশ্ব বঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনে (BGBS) সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের উপস্থিতি এবং তাঁর প্রতিশ্রুত লৌহ ইস্পাত কারখানা নির্মাণ নিয়ে পুনরায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সৌরভের ঘোষণার এক বছর পরেও পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনি বা চন্দ্রকোণায় কারখানার নির্মাণের কাজ শুরু হয়নি। ফলে বণিক মহল উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছে, এবং তাঁরা আশঙ্কা করছেন, লৌহ ইস্পাত কারখানা পশ্চিমবঙ্গের বাইরে চলে যেতে পারে।
সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রতিশ্রুতি এবং আইনি জটিলতা


২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রীর ইউরোপ সফরে যোগদানকালে ঘোষণা করেছিলেন, পশ্চিমবঙ্গে একটি লোহার রড তৈরির কারখানা স্থাপন করবেন। প্রথমে শালবনির পরিত্যক্ত জমিতে কারখানার নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল। পরবর্তীতে জানানো হয়, কারখানাটি চন্দ্রকোণায় প্রয়াগ ফিল্ম সিটির পরিত্যক্ত জমিতে তৈরি হবে এবং সেখানে ৩৫০ একর জমি মাত্র ১ টাকায় সৌরভের সংস্থাকে দেওয়া হবে। কিন্তু এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রয়াগে বিনিয়োগকারীরা আদালতে মামলা করেন, এবং আদালত জমির বাজারমূল্য নির্ধারণের জন্য কেন্দ্রীয় সংস্থাকে নির্দেশ দেয়। এর ফলে, সৌরভের সংস্থা ওই জমিতে কারখানা স্থাপনের জন্য টেন্ডারে অংশগ্রহণ করতে পারবে।
পশ্চিম মেদিনীপুরের বণিক মহলের উদ্বেগ এবং আশাবাদ
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা বণিকসভার সম্পাদক চন্দন বসু বলেন, “আমরা আশা করেছিলাম, বিশ্ব বঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলন থেকে সৌরভের লৌহ ইস্পাত কারখানার নির্মাণের অগ্রগতি নিয়ে কোনো ঘোষণা হবে। কিন্তু তা হয়নি, আমরা এতে হতাশ হয়েছি।” বণিক মহলের আশঙ্কা, কারখানার নির্মাণে আইনি জটিলতা সৃষ্টির ফলে এটি রাজ্যের বাইরে চলে যেতে পারে, যা পশ্চিম মেদিনীপুরের জন্য একটি বড় ক্ষতি হতে পারে।


বাণিজ্য সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা
বাণিজ্য সম্মেলনে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রশংসা করলেও, রাজনৈতিক মহল মনে করে রাজ্যে বড় শিল্পের আগমন নিয়ে কিছু বাধা রয়েছে। অনেকের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমি নীতি কারণে রাজ্যে বড় শিল্প স্থাপন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে, সৌরভের লৌহ ইস্পাত কারখানা স্থাপনেও বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
সৌরভের প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করার কারণ কী?
বণিক মহলের সদস্যরা প্রশ্ন তুলেছেন, সৌরভ কেন তার প্রতিশ্রুত কারখানা ছয় মাসের মধ্যে তৈরি করতে পারলেন না? দেড় বছর পরেও কেন জমির আইনি জটিলতার সমাধান করা যায়নি, সে নিয়েও তারা সন্দিহান।







