নিপা ভাইরাসের আতঙ্কে কার্যত কাঁপছে বাংলা। একের পর এক সন্দেহভাজন সংক্রমণের খবরে উদ্বেগ চরমে। এই আবহেই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আনল AIIMS কল্যাণী। তাদের প্রাথমিক রিপোর্টে আশঙ্কা করা হয়েছে, নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জ ব্লকের সীমান্তঘেঁষা ঘোঘরাগাছি গ্রামই হতে পারে নিপা ভাইরাস সংক্রমণের উৎস। বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া এই এলাকা থেকেই ভাইরাস ছড়িয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বর্তমানে নিপা আক্রান্ত সন্দেহে দু’জন নার্স ভেন্টিলেশনে রয়েছেন। পাশাপাশি, আরও এক নার্সকে মঙ্গলবার গভীর রাতে কলকাতার বেলেঘাটা আইডি হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়েছে। তাঁকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা চলছে। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্ভাব্য সংক্রমণের শৃঙ্খল ভাঙতে ইতিমধ্যেই জোরকদমে কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং শুরু হয়েছে।

কল্যাণী এইমস-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ১৫ ডিসেম্বর বারাসতের একটি বেসরকারি হাসপাতালের এক নার্স পারিবারিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে নদিয়ার ঘোঘরাগাছি গ্রামে গিয়েছিলেন। সেখানেই তিনি কাঁচা খেজুরের রস পান করেছিলেন বলে সন্দেহ। চিকিৎসকদের অনুমান, ওই খেজুরের রসের মাধ্যমেই নিপা ভাইরাস তাঁর শরীরে প্রবেশ করে থাকতে পারে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ঘোঘরাগাছি গ্রামের ঠিক ওপারেই বাংলাদেশের চুয়াডাঙা জেলা এবং কিছুটা দূরে কুষ্টিয়া। এই এলাকাগুলিতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই নিপা ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ছে বলে জানা যাচ্ছে। ইনফ্রা-রেড ক্যামেরায় ধরা পড়েছে, ওই অঞ্চলে ফলখেকো বাদুড় নিয়মিত খেজুরের রস খাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা, খেজুরের রস খাওয়ার সময় বাদুড়ের লালা বা মল রসে মিশে গেলে, সেই রস পান করলেই মানুষের শরীরে নিপা ভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কা তৈরি হয়।
রাজ্যে নিপা পরিস্থিতি নিয়ে সোমবার সাংবাদিক বৈঠক করেন রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী। তিনি বলেন, “এই ভাইরাস বাদুড় থেকে আসে, সেটা সবাই জানেন। তাই বাদুড় যা খায়, সেই ধরনের খাবার থেকে মানুষকে দূরে থাকতে হবে।” সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য নিপা সংক্রান্ত বিশেষ হেল্পলাইনও চালু করা হয়েছে। নম্বরগুলি হল ০৩৩-২৩৩৩০১৮০ এবং ৯৮৭৪৭০৮৮৫৮।


মুখ্যসচিব আরও জানান, আক্রান্ত দুই নার্স পূর্ব বর্ধমান জেলাতেও গিয়েছিলেন। সেই সূত্র ধরে সংশ্লিষ্ট সব এলাকায় নজরদারি ও কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং জোরদার করা হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণে, তবে কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ সরকার।
সব মিলিয়ে, সীমান্ত এলাকা ঘিরে নিপা সংক্রমণের সম্ভাব্য উৎস সামনে আসায় রাজ্যজুড়ে সতর্কতা আরও বাড়ানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একটাই পরামর্শ—কাঁচা খেজুরের রস ও বাদুড়ে খাওয়া ফল এড়িয়ে চলুন, উপসর্গ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।









