পহেলগাম হত্যাকাণ্ডের ছক পাকিস্তানে! NIA চার্জশিটে উঠে এল লাহোর-রাওয়ালপিন্ডি যোগের দাবি

পহেলগাম হামলার চার্জশিটে পাকিস্তান-যোগ, টেলিগ্রাম চ্যানেল, ডিজিটাল যোগাযোগ ও জঙ্গি নেটওয়ার্কের তথ্য তুলে ধরল NIA।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

পহেলগাম জঙ্গি হামলার তদন্তে নতুন দাবি সামনে আনল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। জম্মুর বিশেষ NIA আদালতে জমা দেওয়া চার্জশিটে তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, ২০২৫ সালের ভয়াবহ পহেলগাম হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা, সমন্বয় এবং হামলার নির্দেশ— সবই পাকিস্তান থেকে নিয়ন্ত্রিত হয়েছিল। তদন্তে ডিজিটাল যোগাযোগ, সোশ্যাল মিডিয়া ট্র্যাক এবং জঙ্গিদের গতিবিধির তথ্য উঠে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

গত ২২ এপ্রিল ২০২৫, জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগামের বৈসরন উপত্যকায় জঙ্গি হামলায় ২৬ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন ২৫ জন পর্যটক এবং এক স্থানীয় বাসিন্দা। ঘটনার পর থেকেই সন্দেহের কেন্দ্রে ছিল লস্কর-ই-তৈবার ছায়া সংগঠন দ্য রেজ়িস্ট্যান্স ফ্রন্ট (TRF)

NIA-র চার্জশিট অনুযায়ী, হামলার পর প্রথমে ‘কাশ্মীর ফাইট’ নামে একটি সামাজিক মাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকে হামলার দায় স্বীকার করা হয়। তদন্তে দাবি করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টটি পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া থেকে পরিচালিত হত। এছাড়াও ‘The Resistance Front Official’ নামে আরেকটি টেলিগ্রাম চ্যানেলের হদিস পাওয়া যায়, যা তদন্তকারী সংস্থার দাবি অনুযায়ী রাওয়ালপিন্ডি থেকে নিয়ন্ত্রিত হত।

চার্জশিটে আরও উঠে এসেছে পাক জঙ্গি সইফুল্লা ওরফে সাজিদ জাট ওরফে ‘ল্যাংড়া’-র নাম। NIA-র দাবি, সে লস্করের সঙ্গে যুক্ত এবং এই হামলার অন্যতম মূলচক্রী। তদন্তে অভিযোগ, লাহোর থেকে সরাসরি হামলাকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

তদন্তকারী সংস্থার দাবি, হামলার আগে ১৫ ও ১৬ এপ্রিল তিন জঙ্গি বৈসরন উপত্যকায় গিয়ে এলাকা পর্যবেক্ষণ বা রেকি করেছিল। চার্জশিটে তাদের পরিচয় হিসেবে ফয়জ়ল জাট ওরফে সুলেমান, হাবিব তাহির ওরফে ছোটু এবং হামজ়া আফগানি-র নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে সহযোগিতার অভিযোগও সামনে এসেছে।

হামলার পরে ভারতীয় সেনা জম্মু-কাশ্মীরে ‘অপারেশন মহাদেব’ শুরু করে। কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, ওই অভিযানে হামলার সঙ্গে যুক্ত তিন জঙ্গিকে খতম করা হয়। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোন নিয়েও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে।

চার্জশিটে দাবি করা হয়েছে, উদ্ধার হওয়া অন্তত দু’টি মোবাইল পাকিস্তান থেকে কেনা হয়েছিল। এর মধ্যে একটি অনলাইনে কেনার পর লাহোরের কায়েদ-ই-আজ়ম ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেট এলাকায় পাঠানো হয়েছিল বলে অভিযোগ। অন্য মোবাইলটি পাকিস্তানের করাচি থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল বলে তদন্তে উল্লেখ রয়েছে।

তবে উল্লেখযোগ্যভাবে, এগুলি তদন্তকারী সংস্থার চার্জশিটে উত্থাপিত অভিযোগ। মামলার বিচারপ্রক্রিয়া এখনও চলমান এবং আদালতের চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ এখনও বাকি।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

-Advertisement-

আরও খবর