কাশ্মীর ইস্যুতে রাষ্ট্রপুঞ্জের মঞ্চে ফের মুখোমুখি ভারত ও পাকিস্তান। নিরাপত্তা পরিষদে পাকিস্তানের তরফে জম্মু ও কাশ্মীর প্রসঙ্গ উত্থাপনের পর কড়া ভাষায় পাল্টা আক্রমণ শানাল নয়াদিল্লি। ভারতের দাবি, নিজেদের ইতিহাসে গণহত্যা ও সাধারণ নাগরিকদের বিরুদ্ধে হিংসার অভিযোগ থাকা একটি দেশের ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য করার নৈতিক অবস্থান নেই।
রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি হরিশ পারভাথানেনি বক্তব্য রাখতে গিয়ে ১৯৭১ সালের ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর প্রসঙ্গ তোলেন। তাঁর বক্তব্য, পাকিস্তানের অতীত রেকর্ড এবং প্রতিবেশী অঞ্চলে তাদের আচরণ আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
নিরাপত্তা পরিষদে সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষা সংক্রান্ত বার্ষিক আলোচনার সময় পাকিস্তানের প্রতিনিধি কাশ্মীর প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন। তার জবাবে ভারত অভিযোগ তোলে যে ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা আড়াল করতে সীমান্তের ভিতরে ও বাইরে সংঘাতের পথ বেছে নিয়েছে।
ভারতের বক্তব্যে আফগানিস্তানেও সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপের প্রসঙ্গ উঠে আসে। ভারত অভিযোগ করে, পাকিস্তান সীমান্তপারের অভিযানে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা উপেক্ষা করেছে এবং আন্তর্জাতিক আইন নিয়ে তাদের অবস্থানের সঙ্গে বাস্তব আচরণের ফারাক রয়েছে।
অন্যদিকে পাকিস্তান এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ইসলামাবাদের দাবি, তাদের সামরিক পদক্ষেপ শুধুমাত্র জঙ্গি ঘাঁটি ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে ছিল, কোনও হাসপাতাল বা বেসামরিক পরিকাঠামোকে নিশানা করা হয়নি।
রাষ্ট্রপুঞ্জের মঞ্চে এই নতুন বাকযুদ্ধ আবারও স্পষ্ট করে দিল, কাশ্মীর প্রশ্ন ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে ভারত-পাকিস্তান কূটনৈতিক অবস্থান এখনও তীব্রভাবে বিপরীতমুখী। আন্তর্জাতিক স্তরে এই বিতর্ক আগামী দিনেও আলোচনায় থাকার ইঙ্গিত মিলছে।



