নিউটাউনের ফ্ল্যাটে ২ কোটিরও বেশি নগদ উদ্ধার! হাওয়ালা চক্রের অভিযোগে গ্রেফতার ৭, তদন্তে বিধাননগর পুলিশ

সাইবার প্রতারণার তদন্তে নেমে নিউটাউনের একটি ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার ২ কোটিরও বেশি নগদ টাকা, টাকা গোনার মেশিন, চারটি গাড়ি ও একটি স্কুটার। পুলিশের দাবি, ভাড়া নেওয়া ওই ফ্ল্যাট থেকেই চলছিল হাওয়ালা চক্রের কারবার।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

New Town Hawala Case: কলকাতায় ফের বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সাইবার প্রতারণার তদন্তে নেমে নিউটাউনের একটি আবাসনের ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়ে ২ কোটিরও বেশি নগদ টাকা উদ্ধার করেছে বিধাননগর সিটি পুলিশ। শুধু নগদ নয়, বাজেয়াপ্ত হয়েছে টাকা গোনার একাধিক মেশিন, চারটি গাড়ি এবং একটি স্কুটার। ঘটনায় এক মহিলাসহ সাতজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সাইবার ক্রাইমের একটি মামলার তদন্তে বিধাননগর পুলিশের সাইবার ক্রাইম শাখা, ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্ট এবং টেকনোসিটি থানার যৌথ দল নিউটাউনের ওই ফ্ল্যাটে অভিযান চালায়। প্রায় ১২ ঘণ্টা ধরে চলে তল্লাশি।

অভিযানের সময় ফ্ল্যাট থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধার হয়। এত বেশি টাকা ছিল যে সেগুলি তিনটি ট্রলি ব্যাগে ভরে বাইরে নিয়ে যেতে হয়। পাশাপাশি নগদ অর্থ গোনার জন্য ব্যবহৃত একাধিক ক্যাশ কাউন্টিং মেশিনও উদ্ধার হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের দাবি, ভাড়া নেওয়া ওই ফ্ল্যাট থেকেই একটি হাওয়ালা চক্র পরিচালিত হচ্ছিল। যদিও উদ্ধার হওয়া অর্থের প্রকৃত উৎস, কার মালিকানাধীন এবং কীভাবে এই বিপুল অঙ্কের নগদ সেখানে পৌঁছেছিল, তা এখনও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

বিধাননগর পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার হওয়া সাতজনের মধ্যে একজন মহিলা রয়েছেন। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সাতজনই ভিনরাজ্যের বাসিন্দা এবং তাঁদের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের কোনও বাসিন্দা নেই। তদন্তকারীদের দাবি, গত প্রায় ছয় মাস ধরে তাঁরা নিউটাউনের ওই ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে সেখানে কার্যকলাপ চালাচ্ছিলেন।

পুলিশের এক আধিকারিক জানান, তদন্তের শুরুতে এই নগদ অর্থকে কল সেন্টারভিত্তিক সাইবার প্রতারণার টাকা বলে সন্দেহ করা হয়েছিল। তবে তদন্ত যত এগিয়েছে, ততই হাওয়ালা লেনদেনের যোগসূত্র সামনে এসেছে। সেই কারণেই মামলার তদন্তের পরিধিও আরও বাড়ানো হয়েছে।

ঘটনা নিয়ে রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, অতীতেও একাধিকবার বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধার হয়েছে এবং এখনও বিভিন্ন জায়গায় অবৈধ অর্থ লেনদেন চলছে বলে তাঁর অভিযোগ। তিনি দাবি করেন, তদন্তকারী সংস্থাগুলি ধাপে ধাপে এই ধরনের অর্থ উদ্ধারের অভিযান চালাচ্ছে এবং বেআইনি আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে জড়িত কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না।

এখন উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থের উৎস, সম্ভাব্য হাওয়ালা নেটওয়ার্ক এবং এর সঙ্গে অন্য কোনও আন্তঃরাজ্য চক্র জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে বিধাননগর সিটি পুলিশের তদন্তকারী দল। গ্রেফতারদের জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন