নেতাজিকে অপমান করলে গ্রেফতার, কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর! অনন্ত মহারাজের বিরুদ্ধেও কি পদক্ষেপ?

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে অপমানজনক মন্তব্য ও সমাজমাধ্যমে প্রচারের অভিযোগে BNS-এ মামলা, প্রয়োজনে গ্রেফতারের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর, অনন্ত মহারাজের নামও উঠল।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরো: নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু (Netaji Subhas Chandra Bose)-কে নিয়ে অপমানজনক মন্তব্য বা সমাজমাধ্যমে ‘অপপ্রচার’ বরদাস্ত করা হবে না—নবান্ন থেকে বুধবার কার্যত সেই বার্তাই দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। নেতাজিকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্টের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) অনুযায়ী মামলা এবং প্রয়োজনে গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে স্পষ্ট করে দিয়েছেন, পোস্ট মুছে ফেললেই আইনি পদক্ষেপ থেকে রেহাই মিলবে না।

বুধবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নেতাজি একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক। তাঁকে নিয়ে সমাজমাধ্যমে অপমানজনক মন্তব্য ও বিভ্রান্তিকর প্রচারের অভিযোগ সামনে আসার পর পুলিশ এবং সাইবার সেলকে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয় বা দলীয় অবস্থান দেখে কোনও রকম ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, এ ধরনের ঘটনায় নির্দিষ্ট ধারায় মামলা করা হবে। প্রয়োজন হলে গ্রেফতারও করা হতে পারে। যাঁরা নেতাজিকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট করেছেন, তাঁদের দ্রুত তা মুছে ফেলার পাশাপাশি ক্ষমা চাওয়ার বার্তাও দিয়েছেন শুভেন্দু।

তবে পোস্ট ডিলিট করলেই আগের অপরাধের বিষয়টি মুছে যাবে না—এই কথাটিও স্পষ্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। অর্থাৎ, কোনও বিতর্কিত পোস্ট পরে সরিয়ে নেওয়া হলেও পুলিশ প্রয়োজনে সেই পোস্টের উৎস, বিষয়বস্তু এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভূমিকা খতিয়ে দেখতে পারে। সরকারের বক্তব্য, নেতাজিকে অসম্মানের অভিযোগে প্রশাসনের অবস্থান হবে ‘জ়িরো টলারেন্স’।

এই ঘোষণার পরেই স্বাভাবিক ভাবে সামনে এসেছে বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ নগেন রায় ওরফে অনন্ত মহারাজের (Ananta Maharaj) প্রসঙ্গ। সাম্প্রতিক একটি বক্তব্যে নেতাজির স্বাধীনতা সংগ্রামে ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি আজাদ হিন্দ ফৌজ নিয়েও মন্তব্য করেছিলেন তিনি। সেই বক্তব্য ঘিরেই গত কয়েক দিন ধরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক চলছে।

অনন্ত মহারাজের বক্তব্যের পর বিরোধী দলগুলির একাংশ বিজেপির অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলে। বিশেষ করে স্বাধীনতা দিবসের আগে নেতাজিকে নিয়ে এমন মন্তব্যের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মহলে সমালোচনা শুরু হয়। সেই আবহেই এ দিন নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সাংবাদিক বৈঠক যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সরাসরি জানতে চাওয়া হয়, অনন্ত মহারাজের বিরুদ্ধেও কি একই ভাবে পুলিশ পদক্ষেপ করবে? জবাবে শুভেন্দু বলেন, “আইন সকলের জন্য সমান।” নেতাজিকে নিয়ে এ ধরনের প্রচারের নেপথ্যে কারা রয়েছেন, পুলিশ তা খতিয়ে দেখবে বলেও জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, অভিযুক্ত ব্যক্তি যে রাজনৈতিক দলেরই হোন না কেন, আইন নিজের পথে চলবে।

এ দিন অনন্ত মহারাজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অবশ্য তাঁর বক্তব্যে অনড় থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাঁর দাবি, তিনি কোনও মনগড়া বা মিথ্যা কথা বলেননি এবং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে বদনাম করার উদ্দেশ্যে কিছু বলেননি। তিনি যা বলেছেন, তা ইতিহাসের ভিত্তিতেই বলেছেন বলে দাবি করেছেন।

নেতাজি বিতর্কের পাশাপাশি সমাজমাধ্যমে নেতাজি ও আজাদ হিন্দ ফৌজকে নিয়ে আরও কিছু পোস্ট সামনে এসেছে বলেও প্রশাসনিক সূত্রে জানা যাচ্ছে। সেই কারণেই বিষয়টি শুধু একজন রাজনৈতিক নেতার মন্তব্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সামগ্রিক ভাবে খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছে রাজ্য সরকার। বিষয়টি নিয়ে মেটা কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হচ্ছে বলে খবর।

এর মধ্যেই রাজ্যে জঙ্গি-যোগের অভিযোগে পরপর গ্রেফতার নিয়েও মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, পুলিশ ও এসটিএফের সক্রিয়তার কারণেই এখন একের পর এক অভিযুক্ত ধরা পড়ছে। কেন্দ্র ও রাজ্যের তদন্তকারী সংস্থাগুলি সমন্বয় রেখে কাজ করছে বলেও দাবি করেন তিনি।

সব মিলিয়ে নেতাজিকে নিয়ে বিতর্ক এখন রাজনৈতিক বাগ্‌যুদ্ধের গণ্ডি ছাড়িয়ে প্রশাসনিক পদক্ষেপের দিকেও এগিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা—নেতাজিকে নিয়ে অপমানজনক মন্তব্য বা সমাজমাধ্যমে আপত্তিকর প্রচারের অভিযোগ উঠলে পুলিশ আইন মেনেই ব্যবস্থা নেবে। আর অনন্ত মহারাজের ক্ষেত্রে সেই তদন্ত বা পদক্ষেপ কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন