নন্দীগ্রাম-রেজিনগরে প্রার্থী চূড়ান্ত, ১৬ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন ঋত শিবিরের! জোড়াফুল প্রতীক নিয়েও বড় দাবি

নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনে ঋত শিবিরের প্রার্থী চূড়ান্ত। ১৬ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন জমা দেবেন মহম্মদ এতেসামুল হক ও সফিউজ্জামান শেখ, প্রতীক নিয়ে চলছে টানাপোড়েন।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনকে ঘিরে তৃণমূলের দুই শিবিরের সংঘাত আরও প্রকাশ্যে। সোমবার জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠকের পর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের তৃণমূল দুই আসনের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হল। রেজিনগরে সফিউজ্জামান শেখ এবং নন্দীগ্রামে মহম্মদ এতেসামুল হককে প্রার্থী করেছে ঋত শিবির। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর দু’জনই মনোনয়ন জমা দেবেন বলে জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে জোড়াফুল প্রতীক পাওয়ার বিষয়েও আত্মবিশ্বাসের কথা জানিয়েছেন ঋতব্রত।

সোমবারের বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, নির্বাচন কমিশনের কাছে তাঁদের প্রয়োজনীয় নথি ও তথ্য জমা দেওয়া হয়েছে। প্রতীক নিয়ে তাঁরা কোনও তাড়াহুড়ো করছেন না বলেও জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার উপর তাঁদের আস্থা রয়েছে।

নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে ঋত শিবিরের প্রার্থী করা হয়েছে মহম্মদ এতেসামুল হককে। অন্যদিকে রেজিনগরে প্রার্থী সফিউজ্জামান শেখ। দুই প্রার্থীই ১৬ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন জমা দেবেন বলে জানিয়েছেন ঋতব্রত।

এদিকে নন্দীগ্রাম নিয়ে কালীঘাট তৃণমূলের সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন ফেলেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)-র নিজের প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা চলছিল। সেই জায়গায় রবিবার রাতে সঞ্চিতা প্রধান দে-কে প্রার্থী করার ঘোষণা করে কালীঘাট শিবির।

এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেন ঋতব্রত। তাঁর দাবি, বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জিততে পারেননি এবং নিজের বুথ ও পাড়াতেও পরাজিত হয়েছেন। তাই তাঁকে নন্দীগ্রাম থেকে প্রার্থী করার দাবি তাঁরা জানিয়েছিলেন।

ঋতব্রত বলেন, তাঁরা চেয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই প্রার্থী হয়ে জিতে বিধানসভায় ফিরুন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কালীঘাট শিবির নন্দীগ্রামে সঞ্চিতা প্রধান দে-কে প্রার্থী করেছে। ফলে একই দলের দুই শিবিরের প্রার্থী তালিকা ঘিরে রাজনৈতিক টানাপোড়েন আরও বেড়েছে।

রেজিনগরেও একই ছবি। কালীঘাট তৃণমূলের প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী। ফলে দুই শিবিরই নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করে দেওয়ায় উপনির্বাচনের লড়াই শুরুর আগেই তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখনও জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে। প্রতীকের দাবিদার হিসেবে ঋত শিবির নির্বাচন কমিশনের কাছে নিজেদের নথি ও দাবিদাওয়া জমা দিয়েছে। অন্যদিকে কালীঘাট তৃণমূলও নিজেদের দাবির পক্ষে প্রয়োজনীয় নথি কমিশনে জমা দিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে ১৬ সেপ্টেম্বর কালীঘাট তৃণমূলকে শুনানির জন্য ডেকেছে নির্বাচন কমিশন। ঋত শিবিরকে এখনও সেই শুনানির জন্য ডাকা হয়নি। তবে তা নিয়ে খুব একটা উদ্বিগ্ন নন ঋতব্রত। বরং নিজের শিবিরের প্রতীক নিয়ে প্রকাশ্যেই আত্মবিশ্বাস দেখিয়েছেন তিনি।

ঋতব্রতর দাবি, তাঁদের প্রতীক হবে ‘ঘাসের উপর জোড়াফুল’। যদিও প্রতীক নিয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা স্থগিতাদেশের কথা জানায়নি নির্বাচন কমিশন। ফলে শেষ পর্যন্ত জোড়াফুল কার হাতে যায়, সেই সিদ্ধান্তই এখন নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

প্রতীক নিয়ে কমিশনের সিদ্ধান্তের আগেই দুই পক্ষ প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করায় রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। ১৬ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন পর্বে দুই শিবিরের প্রার্থীরা মাঠে নামার পর এই সংঘাত আরও প্রকাশ্যে আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন