বাংলার ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া বা Special Summary Revision (SIR) শুরু হতে চলেছে রাজ্যজুড়ে। এই কাজের অন্যতম প্রধান দায়িত্বে রয়েছেন Booth Level Officer (BLO) রা। কিন্তু অবাক করা তথ্য উঠে এসেছে নদিয়ার চাকদা থেকে — যাঁরা ভোটার তালিকা সংশোধনের গুরুদায়িত্বে, তাঁদেরই নাম নেই ২০০২ সালের ভোটার তালিকায়।
এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা জানিয়েছেন খোদ চাকদা ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক (BDO) সমীরণ কৃষ্ণ মণ্ডল। তাঁর বক্তব্য, চাকদায় মোট ৩২২ জন BLO দায়িত্বে রয়েছেন, আর তাঁদের মধ্যে ১৩ জন BLO-এর নামই নেই ভোটার তালিকায়। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা নদিয়া জেলায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, যেসব পরিবারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, সেই পরিবারেরই একজন সদস্যকে BLO হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থল নদিয়া জেলার চাকদা থানার তাতলা ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের মসরা মাঠপাড়া এলাকা।
বিশেষভাবে নজরে এসেছে এক BLO-র নাম — রনি অধিকারী, যিনি বিষ্ণুপুর হাড়িপুকুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং ৯১/১৩০ পার্টের BLO। অভিযোগ, রনির মা পুষ্পরানী অধিকারী ও বাবা দুলাল অধিকারী ২০১৬ সালে অবৈধভাবে নিজেদের নামে ভোটার নথি তৈরি করিয়েছিলেন। আরও গুরুতর অভিযোগ, ২০১৮ সালে পুষ্পরানীকে ‘মা’ এবং দুলালকে ‘দাদা’ দেখিয়ে রনি নিজের নাম ভোটার তালিকায় তুলেছেন।
এই বিষয়ে নথিপত্রেও প্রমাণ রয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনা জানাজানি হতেই সংশ্লিষ্ট পরিবার চাকদা বিডিওর দফতরে হাজির হন। বিডিও সমীরণ কৃষ্ণ মণ্ডল তাঁদের আশ্বস্ত করে জানান, BLO রা আপাতত অথরিটির নির্দেশ অনুযায়ী দায়িত্বে রয়েছেন, এবং বিষয়টি জেলা স্তরে জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। BLO-দের নাম কেন তালিকায় নেই তা যাচাই করা হচ্ছে। প্রয়োজনে নির্বাচন দফতরকে জানানো হবে।”
এদিকে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India) সোমবার রাত ১২টার মধ্যেই ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ভোটার তালিকা ফ্রিজ করে দিয়েছে। ফলে নতুন নাম তোলা বা বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া আপাতত বন্ধ।
সূত্রের খবর, আগামী ২৮ অক্টোবর থেকে শুরু হবে Enumeration Form ছাপানোর কাজ। এরপর BLO দের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, এবং ৪ নভেম্বর থেকে তাঁরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে Form Fill-up প্রক্রিয়া শুরু করবেন।
যাঁরা রাজ্যের বাইরে থাকবেন বা প্রবাসী, তাঁরাও অনলাইনে ভোটার ফর্ম পূরণ করতে পারবেন। খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে ৯ ডিসেম্বর, এবং অভিযোগ জানানো যাবে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। তারপর ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে যাচাই প্রক্রিয়া, আর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হবে ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।
এই ঘটনার ফলে SIR প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ভোটার তালিকা সংশোধনের দায়িত্ব যাঁদের হাতে, তাঁদের নামই যদি তালিকায় না থাকে, তবে প্রক্রিয়ার সঠিকতা নিয়ে প্রশাসনিক মহলেই উদ্বেগ বাড়ছে।
স্থানীয় প্রশাসনের তরফে যদিও জানানো হয়েছে, BLO-দের দায়িত্বে কোনো ব্যাঘাত ঘটবে না, তবে রাজনৈতিক মহল থেকে ইতিমধ্যেই দাবি উঠেছে — বিষয়টি খতিয়ে দেখতে নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।



